বিশ্বে বায়ু ও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিহাস

ঢাকাঃ চলতি বছরের এপ্রিলে বায়ু ও সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিশ্বে এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।
প্রথমবারের মতো তা গ্যাস উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এম্বারের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২২ শতাংশ এসেছে বায়ু ও সৌরশক্তি থেকে। এসময়ে গ্যাস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে।
এম্বারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ওপর যুদ্ধে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ব্যাপক সংকট চলছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিভিন্ন দেশকে বায়ু, সৌরশক্তি ও কয়লার মতো বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তবে শুধু জীবাশ্ম জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেই সৌর ও বায়ু শক্তির বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে যায়নি। বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতারও প্রতিফলন এটি।
এম্বারের বৈশ্বিক বিদ্যুৎ বিশ্লেষক কস্তান্তসা রাঙ্গেলোভা বলেন, “বর্তমান জ্বালানি সংকট গ্যাসের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থনৈতিক সুবিধাকে আরও জোরালো করেছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আরো সম্প্রসারিত করার রাজনৈতিক তাগিদও বেড়েছে।”
এপ্রিল সাধারণত নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য শক্তিশালী সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ এসময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকালে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বায়ুশক্তি উৎপাদন বাড়ে এবং একই সময়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। বিশ্বের অধিকাংশ সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।
বিশ্বব্যাপী বায়ু ও সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বার্ষিক প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে বলে এম্বারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে চীনে (১৪ শতাংশ)। এরপরেই রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ১৩ শতাংশ, যুক্তরাজ্য ৩৫ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র আট শতাংশ, অস্ট্রেলিয়া ১৭ শতাংশ, চিলি ২৪ শতাংশ এবং ব্রাজিলে বায়ু ও সৌরশক্তি থেকে চার শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।
মোট ৩৬টি দেশের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যেসব দেশ এখনো এপ্রিলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি, সেসব দেশের ক্ষেত্রে সতর্কভাবে অনুমিত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।




