পাকিস্তান এয়ারলাইন্স নিয়ন্ত্রনে নতুন মালিক
ঢাকা : পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স করপোরেশন লিমিটেডের (পিআইএসিএল) বেসরকারিকরণের প্রথম ধাপের আর্থিক চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে পাকিস্তানের প্রাইভেটাইজেশন কমিশন। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থাটির ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।সোমবার (২৯ জুন) কমিশনের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেয়ার পারচেজ অ্যান্ড সাবস্ক্রিপশন অ্যাগ্রিমেন্টের অধীনে নির্ধারিত সব পূর্বশর্ত পূরণ হওয়ার পর আরিফ হাবিব করপোরেশন লিমিটেডের নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের হাতে পিআইএর পরিচালন দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।কর্তৃপক্ষের মতে, এই চুক্তির প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া পাকিস্তান সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একই সঙ্গে এটি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ঘোষিত অর্থনৈতিক ভিশনের বাস্তব প্রতিফলন, যেখানে টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাতকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দরপত্র প্রক্রিয়ায় কনসোর্টিয়াম মোট ১৮০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মধ্যে ৫৫ বিলিয়ন রুপি সরকারকে বিক্রয়মূল্য হিসেবে প্রদান করা হবে এবং বাকি ১২৫ বিলিয়ন রুপি নতুন মূলধন হিসেবে পিআইএতে বিনিয়োগ করা হবে।চুক্তির প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে কনসোর্টিয়াম সোমবার সরকারের কাছে ১০ বিলিয়ন রুপি বিক্রয়মূল্য পরিশোধ করেছে। পাশাপাশি বিমান সংস্থাটির আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ৮০ বিলিয়ন রুপি নতুন মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করা হয়েছে।এই অর্থ ব্যবহার করা হবে বিমান বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুট চালু, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবা উন্নয়নে। দীর্ঘমেয়াদে পিআইএকে আবারও লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই এই বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য।চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ধাপ সম্পন্ন হওয়ার ১২ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের আর্থিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তখন কনসোর্টিয়াম আরও ৪৫ বিলিয়ন রুপি বিনিয়োগ করবে। এছাড়া অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ শেয়ার কেনার আগ্রহও প্রকাশ করেছে তারা, যার জন্য সরকারকে অতিরিক্ত ৪৫ বিলিয়ন রুপি পরিশোধ করা হবে।প্রাইভেটাইজেশন কমিশন জানিয়েছে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, বিমান ইজারাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মতি, কর কাঠামোর পুনর্বিন্যাস, সুশাসনসংক্রান্ত সংস্কার এবং বিমান অর্থায়নের ব্যবস্থাসহ জটিল নানা শর্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পূরণ করা হয়েছে।কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া চলাকালেও পিআইএর স্বাভাবিক কার্যক্রম, যাত্রীসেবা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বেসরকারিকরণবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলী বলেছেন, এই লেনদেন প্রমাণ করেছে যে পাকিস্তান স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং পেশাদার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল কৌশলগত বেসরকারিকরণ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিকে পাকিস্তানের বেসরকারিকরণের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির প্রতি আস্থা বাড়াবে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।