১৯তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী শুরু

বিশ্বের ১১৪টি দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে ‘১৯তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী’র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
এবার প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ অংশ নিচ্ছে ১১৪টি দেশ। এতে ৪৯৩ জন শিল্পীর ৬৪৯টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হবে। আসরে পুরস্কার দেয়া হবে ৩টি, পুরস্কারের মূল্য ৫ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট, ৬টি ৩ লাখ টাকার সম্মাননা পুরস্কার ও সার্টিফিকেট। এবারের প্রদর্শনী উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
সারা বিশ্বের সমকালীন শিল্পকলাকে প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিল্পপ্রেমী দর্শক ও সংগ্রাহকদের সামনে তুলে ধরতেই দ্বিবার্ষিক ভিত্তিতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। দেশি-বিদেশি শিল্পীরা এসব শিল্পকর্মের মাধ্যমে তাদের সমকালীন চিন্তাভাবনা দর্শকের সামনে তুলে ধরেন।
১৯৮১ সাল থেকে চার দশক ধরে বিরতিহীনভাবে আয়োজন করা হচ্ছে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক চারুকলা উৎসব ‘দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ’। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এই আন্তর্জাতিক চারুকলা উৎসবের আয়োজন করে আসছে।
উৎসবে বিদেশি শিল্পী যারা আসছেন, তাদের নিয়ে সেমিনার, শিল্পবিষয়ক পর্যালোচনামূলক আলোচনা, আর্ট ট্রিপ ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিদেশি শিল্পীদের বাংলাদেশে সাত দিন থাকা খাওয়ার পাশাপাশি তাদের নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ভ্রমণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর বাইরে ১৯তম আসরে বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে রয়েছে পৃথক পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎসবের চতুর্থ দিন ১১ ডিসেম্বর ভিনদেশি শিল্পীদের নিয়ে যাওয়া হবে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়, জাতির পিতার সমাধিসৌধে। ফিরতি পথে অতিথিদের নিয়ে থাকছে নৌকাভ্রমণ।
উৎসবের পঞ্চম দিন ১২ ডিসেম্বর তারা পরিদর্শন করবেন রাজধানীতে ছড়িয়ে থাকা ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষ্যবহ বিভিন্ন স্থান। সেই তালিকায় রয়েছে ভাষাশহীদদের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনার, জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এবং সংসদ ভবন।
এবার আয়োজনে স্থান পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন গ্রিসের ড্যানে স্ট্রাও, ঘানার ইব্রাহিম মাহামা, যুক্তরাজ্যের সুসান কলিন্স, নেপালের সুনিতা মহারাজ, কোরিয়ার মি ইয়ং আর্কিম, ইতালির অ্যালেক্স সালা ও যুক্তরাজ্যের কিমভি নুয়েন।
চিত্রকর্ম, স্থাপনাশিল্প থেকে পারফর্মিং আর্টের মাধ্যমে প্রদর্শনীতে নবমাত্রা যোগ করবেন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এই শিল্পীরা। বিশ্বখ্যাত এসব শিল্পীর সমান্তরালে প্রদর্শনীতে আলো ছড়াবে বাংলাদেশের বরেণ্য ও প্রতিভাবান শিল্পীদের শিল্পকর্ম। সেই সুবাদে দেশের মাস্টার পেইন্টারদের শিল্পকর্ম নিয়ে থাকবে বিশেষ আয়োজন।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসান, এস এম সুলতান, সফিউদ্দিন আহমদ, কাইয়ুম চৌধুরীসহ দেশের পৃথিকৃৎ ও প্রয়াত বরেণ্য শিল্পীদের সৃষ্ট শিল্পকর্ম নিয়ে পৃথক প্রদর্শনী থাকবে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনালয়ে।
এ আসরে বাংলাদেশের বাইরে অংশগ্রহণকারী বাকি ১১৪টি দেশের মধ্যে আছে আর্জেন্টিনা, অ্যাঙ্গোলা, বেনিন, ক্যামেরুন, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভেনিজুয়েলা, আফগানিস্তান, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, যুক্তরাজ্য এবং ইউক্রেন।
-B










