৫৩০ কোটি মোবাইল ফোন ই-বর্জ্যে পরিণত হবে এ বছর
বিশ্বের পৌনে আটশ কোটি মানুষের হাতে এখন মোবাইল ফোন। আর এ বছর যে বিপুল সংখ্যক ফোন বাতিল হয়ে যাবে, তার সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ওয়েস্ট ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট (ডব্লিউইইই) ফোরাম’ জানিয়েছে, কেবল এ বছরই ৫৩০ কোটি মোবাইল ফোন ই-বর্জ্যে পরিণত হবে।
পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করা বা রিসাইকেল করার সুযোগ নেই এসব মোবাইল ফোনের।
ডব্লিউইইই ফোরামের গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইল ফোন মালিকদের অনেকে পুরোনো ডিভাইস রিসাইকেল করার বদলে নিজের কাছেই রেখে দিচ্ছেন। ইলেকট্রনিক পণ্যের তারে ব্যবহৃত কপার বা রিচার্জেবল ব্যাটারি নির্মাণে ব্যবহৃত কোবাল্টের মতো ধাতু আসে খনি থেকে।
ডিভাইসগুলো রিসাইকেল করা না হলে অথবা নষ্ট ডিভাইস থেকে এসব দামি ধাতু সংগ্রহ করার উদ্যোগ ও চেষ্টা না থাকলে বর্জ্য হিসেবেই নষ্ট হয় মূল্যবান ধাতুগুলো।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশ সচেতনদের মাথাব্যথার নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্য। ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাণে ব্যবহৃত যে পরিমাণ মূল্যবান ধাতু নষ্ট হয়, পরিবেশের ওপরও তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। ডব্লিউইইই মহাপরিচালক প্যাসকেল লিরয় বলেন, ‘মানুষ যেটা উপলব্ধি করতে পারছে না, সেটা হলো, তুচ্ছ মনে হওয়া জিনিসগুলোরও অনেক মূল্য আছে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে ভাবলে একযোগে এর আকার বিরাট’।
বিশ্বব্যাপী মানুষের হাতে এখন এক হাজার ছয়শ’ কোটি মোবাইল ফোন আছে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে ইউরোপের নাগরিকদের কাছে থাকা ডিভাইসগুলোর এক-তৃতীয়াংশই আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। নিজস্ব গবেষণার ভিত্তিতে ডব্লিউইইই জানিয়েছে, ওয়াশিং মেশিন থেকে শুরু করে ট্যাবলেট কম্পিউটার ও জিপিএস ডিভাইসের মতো বৈদ্যুতিক পণ্য থেকে সৃষ্ট ‘পর্বত’ সমান বর্জ্যরে আকার ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতি বছর ৭ কোটি ৪০ লাখ টন করে বাড়তে থাকবে।
২০২২ সালে এসে ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা কারণে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা। সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে এ বছরের শুরুতেই নতুন পণ্য নির্মাণের জন্য ই-বর্জ্য বা ফেলে দেয়া ইলেকট্রনিক পণ্য থেকে প্রয়োজনীয় মূলবান ধাতব আহরণ নিয়ে প্রচার শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইট অব কেমিস্ট্রি।
ডব্লিউইইই ব্যবস্থাপক ম্যাগডালেনা কারেতানোভিচ বলেন, নতুন ইলেকট্রনিক ডিভাইস অথবা অন্যান্য যন্ত্রাংশ নির্মাণে ব্যবহার করা যেতে পারে এই ডিভাইসগুলো (ই-বর্জ্য) থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল; যেমন- উইন্ড টার্বাইন, বিদ্যুৎ চালিত গাড়ির ব্যাটারি বা সোলার প্যানেল হতে পারে এখান থেকে। কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব সমাজ ব্যবস্থা গঠনের জন্য এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি বছর বিশ্বের মোট ই-বর্জ্যরে মাত্র ১৭ শতাংশ পুরোপুরি রিসাইকেল করা হয়। ২০২৪ সালের মধ্যে এই হারকে ৩০ শতাংশে নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘের ‘ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)’।
আইটিইউয়ের মতে, ফেলে দেয়া ইলেকট্রনিক পণ্য ও যন্ত্রপাতি ‘সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং সবচেয়ে জটিল’ বর্জ্য উৎস, যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাটেরিয়াল ফোকাসের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, কেবল যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ঘরেই ৫৬৩ কোটি পাউন্ড দামের সচল বৈদ্যুতিক পণ্য অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। এর সম্ভাব্য সমাধান দেয়ার চেষ্টা করেছেন প্যাসকেল লিরয়।
তিনি বলেন, সুপারমার্কেটে বসানো কালেকশন বক্স, নতুন পণ্য সরবরাহের সময় পুরোনো ও নষ্ট পণ্য নিয়ে নেয়া এবং আকারে ছোট ই-বর্জ্য পোস্ট অফিসের মাধামে ফেরত নেয়া এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে।
-B










