ই-বর্জ্যে হারিয়ে যাচ্ছে বছরে ৯৫০ কোটি ডলার

পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ না হওয়ায় প্রতি বছর ৯০০ কিলোগ্রাম ইলেকট্রনিক পদার্থ বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে। অথচ ভোক্তাদের ফেলে দেয়া এসব পণ্যের পেছনে যে কাঁচামাল ব্যবহার হয়, তাদের বাজার মূল্য ৯৫০ কোটি ডলার।
এক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে সচেতনতা ও উৎপাদনকারী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগের অভাবকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। প্রক্রিয়াকরণ করা গেলে এসব বর্জ্য আগামী দিনগুলোয় পরিবেশ অনুকূল জ্বালানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমনটিই উঠে এসেছে ইউনাইটেড নেশনস ইনস্টিটিউট ফর ট্রেইনিং অ্যান্ড রিসার্চের (ইউএনআইটিএআর) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
আরও পড়ুন: জমে উঠেছে চামড়াজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী
খেলনা, কেবল, ইলেকট্রনিক সিগারেট, টুলস, ইলেকট্রনিক টুথব্রাশ, হেডফোন ও শেভারের মতো ঘরোয়া পণ্য ব্যবহার শেষ হলে মানুষ ফেলে দেয়। পরিণত হয় বর্জ্যে। অথচ পণ্যগুলোয় থাকে লিথিয়াম, স্বর্ণ, রুপা ও তামার মতো মূল্যবান ধাতু। এসব পদার্থ আবার বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। বিশেষ করে গাড়ির ব্যাটারি তৈরির ক্ষেত্রে লিথিয়ামের চাহিদা ব্যাপক। ফলে ইভির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আগামী দিনগুলোয় স্বাভাবিকভাবেই এসব ধাতুর চাহিদাও বেড়ে যাবে।
শুধু ইউরোপেই ২০৩০ সালের মধ্যে তামার চাহিদা ছয় গুণ হয়ে উঠবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে থাকবে নবায়নযোগ্য শক্তি, যোগাযোগ, মহাকাশ ও প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের সম্প্রসারণ। অথচ বর্জ্য হিসেবে এসব পদার্থ প্রায়ই পুনরায় ব্যবহার করা হয় না। হয় বাড়িতে ধুলো জমে পড়ে থাকে কিংবা ফেলে দেয়া হয় আবর্জনার স্তূপে। এসব উপেক্ষায় পড়ে থাকা ই-বর্জ্য প্রতি বছর ৯০০ কোটি কিলোগ্রাম উৎপাদন হয় বিশ্বজুড়ে। আর এসব উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের মূল্য ৯৫০ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট ফোরামের গবেষক ম্যাগডালিনা চেরিটানোউইজ বলেন, ‘আপাত অদৃশ্য এসব ই-বর্জ্য প্রায়ই পুনঃপ্রক্রিয়া করার সময় গুনতিতে ধরা পড়ে না। সেগুলোকে ই-বর্জ্য আকারে দেখাও হয় না। পরিস্থিতির পরিবর্তন দরকার। এ বিষয়ে আমাদের দিক থেকে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো দরকার।’
আরও পড়ুন: শাহ আমানত বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার প্রবাসীরা
উপেক্ষায় ফেলে রাখা এসব ই-বর্জ্যের এক-তৃতীয়াংশই আসে খেলনা থেকে। তাদের মধ্যে রয়েছে রেসিং কার, পুতুল, রোবট ও ড্রোন। সব মিলিয়ে যাদের বার্ষিক মূল্য ৭৩০ কোটি ডলার। প্রতি বছর প্রায় ৮৪ কোটি ৪০ লাখ ইলেকট্রনিক সিগারেট বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেয়া হয়। এ পরিমাণ অন্তত ছয়টা আইফেল টাওয়ারের সমান। অন্যদিকে, গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৫ কোটি কিলোগ্রাম তামার কেবল পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের উপযোগী। যেগুলো দিয়ে ১০৭ বার পৃথিবীকে ঘিরে রাখা যাবে।
ইউরোপ ৫৫ শতাংশ ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করে। কিন্তু বৈশ্বিকভাবে প্রক্রিয়াকরণের পরিমাণ মাত্র ১৭ শতাংশ। দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকায় পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের হার তুলনামূলক অনেক কম। এসব ই-বর্জ্যের পেছনে উৎপাদনকারীদের দায়ী করেন বিশ্লেষকরা। ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের উৎপাদনকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ২০০৫ সালের পর থেকেই ইউরোপের উৎপাদনকারীরা ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করে। কাজ করে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে এ যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে।
ফরাসি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইকোসিস্টেমের গবষক গিউম দুপারে বলেন, ‘পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের হার বৈশ্বিকভাবে এখন পর্যন্ত খুবই কম। তার মানে এটাই যে বৈশ্বিকভাবেই ই-বর্জ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ঘাটতি রয়েছে। ভোক্তারা এ ব্যাপারে সেভাবে অবহিত নয়।’
-B










