বিমানের ২৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অবশেষে সত্যতা মিলল ৮ বছর আগে ঘটা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অনিয়মের। ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার ঘটনায় সংস্থাটির পরিচালকসহ ২৩ কর্মকর্তার যোগসাজশের প্রমাণ পেয়ে মামলা করেছে দুদক।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র কয়েকটি ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। যেটি সচল করতে মিশর থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি উড়োজাহাজ, দেড় বছরের মাথায় বিকল হয়ে যায় সেটিও।
বছরের পর বছর বসিয়ে রেখে উড়োজাহাজ দুটির পেছনে বিমান ঢেলেছে বিশাল অংকের অর্থ। মেটাতে হয়েছে ভাড়ার টাকা আর রক্ষণাবেক্ষণের দায়। আর এসব কিছুই হয়েছে বিমানের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে, এমন প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসেছে যে টেন্ডার প্রক্রিয়ায়ও অনিয়ম হয়েছে। যদি কর্মাশিয়াল সেটেলমেন্টের মাধ্যমে উড়োজাহাজগুলো ফেরত দেয়া যেত তাহলে ক্ষয়-ক্ষতি এড়ানো যেত।
এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিমানের ফ্লাইট অপারেশন এর পরিচালক ইশরাত আহমেদ, জিএম আবদুর রহমান ফারুকী এবং প্রধান প্রকৌশলী কায়সার জামানসহ অভিযুক্ত ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মামলা করেছে দুদক।
মামলার নথি বলছে, ব্যক্তিগত লাভের জন্যই রাষ্ট্রের ক্ষতি করেছেন এই কর্মকর্তারা।
সচিব বলেন, পূর্বপরিকল্পতিভাবে পরস্পর যোগসাসজশ করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মোট ১ হাজার ১৬৮ টাকা ক্ষতিসাধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষে আজকে সোমবার মিশরীয় বিমান লিজ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বহরের ২১টি ঊড়োজাহাজের ১৮টিই নিজেদের, মাত্র তিনটি চলে লীজে। এমন আত্মতৃপ্তিতে বিভোর বাংলাদেশ বিমান। যদিও পদে পদে অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতি থেকে আজও বের হতে পারেনি সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, মিশর থেকে বোয়িংয়ের দুটি উড়োজাহাজ লিজ সংক্রান্ত ১১শ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয় গত বছরের ১ জুন অভিযান পরিচালনা করেছিল দুদক। দুদক উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্ব অভিযান চালানো হয়েছিল। মাঝে বদলিজনিত কারণে দুদক টিম পুনর্গঠন করা হয়। বর্তমান উপপরিচালক আনোয়ারুল হকের নেতৃত্ব টিম গঠিত হয়।
২০২২ সালের ২৪ মার্চ সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মিশরীয় উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ দুদকের মাধ্যমে তদন্তের জন্য কার্যবিবরণীর অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে দুটি মিশরীয় এয়ারক্র্যাফট লিজ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে গঠিত সংসদীয় সাব কমিটির প্রতিবেদন, বিশেষ করে চুক্তিপত্র প্রণয়ন এবং যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাকরণ টিমের কার্যক্রম ত্রুটিপূর্ণ থাকায় স্থায়ী কমিটির সুপারিশসহ এসব বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুদকে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়।
দুদক অনুমোদিত মামলার আসামিরা হলেন- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ফ্লাইট অপারেশনের সাবেক পরিচালক ক্যাপ্টেন ইনরাত আহমেদ, সাবেক ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল আলম সিদ্দিক (এস এ সিদ্দিক), মহা ব্যবস্থাপক (মুদ্রণও প্রকাশনা) আবদুর রহমান ফারুকী, সার্ভিসেস অ্যান্ড অডিটের সাবেক প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ হানিফ, সাবেক প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (এমসিসিঅ্যান্ডএলএম) দেবেশ চৌধুরী, ক্যাবের কনসালটেন্ট গোলাম সারওয়ার ও ক্যাবের প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম ভূঞা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ডিজিএম কামাল উদ্দিন আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী এ আর এম কায়সার জামান, শরীফ রুহুল কুদ্দুস (প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জি (স্ট্রাকচার), ক্যাপ্টেন মো. নজরুল ইসলাম শামিম, উপ মহাব্যবস্থাপক (এওসি, এসিপি) জিয়া আহমেদ, চিফ পার্সার (অবসরপ্রাপ্ত) কাজী মোসাদ্দেক আলী, ফ্লাইটপার্সার মো. শহিদুল্লাহ কায়সার ডিউক, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আজাদ রহমান, সাবেক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল কাদির, সাবেক উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, সাবেক ইঞ্জিনিয়ার অফিসার মো. জাহিদ হোসেন, সহকারী ব্যবস্থাপক মো. ফজলুল হক বসুনিয়, ব্যবস্থাপক মো. আতাউর রহমান, চিফ পার্সার মোহাম্মদ সাজ্জাদ উল হক (শাহিন) , ফ্লাইট পার্সার শাহনাজ বেগম ঝর্ণা এবং সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার গাজী মাহমুদ ইকবাল।
-B










