বিমানের ১৭ সিবিএ নেতাকে দুদকে তলব

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭ জন কালেক্টিভ বার্গেনিং এজেন্ট (সিবিএ) নেতাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ ধাপে তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে।
১৮ সেপ্টেম্বর দুদক এক চিঠিতে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বিষয়টি জানিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিমানের ১৭ সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম অনিয়ম, দুর্নীতি ও আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি টিম গঠন করা হয়েছে।
এই অবস্থায় ১৭ সিবিএ নেতাকে নিজের ও স্ত্রী-সন্তানের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও আয়কর রিটার্ন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ দুদকে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। দুদকের অুনসন্ধান ও তদন্ত-২ এর উপ-পরিচালক মো. মোনায়েম হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে উল্লিখিত সব তথ্য পাওয়া গেছে।
চিঠি অনুযায়ী ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দিন দুদকে তলব করা হয়েছে সাবেক সিবিএ সভাপতি ও বর্তমানে বিমানের কানাডা অফিসের কান্ট্রি ম্যানেজার মশিকুর রহমান, তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট আজাহারুল ইমাম মজুমদার, আনোয়ার হোসেন, মো. ইউনুস খানকে।
২৬ সেপ্টেম্বর তলব করা হয়েছে সাবেক সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মনতাসার রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক রুবেল চৌধুরী, অরগানাইজিং সেক্রেটারি মো. রফিকুল আলম ও আবুল কালামকে। এছাড়া ২৭ সেপ্টেম্বর হাজির থাকবেন তৎকালীণ ফিন্যান্স সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান, অফিস সেক্রেটারি মো. হারুনর রশিদ, পাবলিসিটি সেক্রেটারি আবদুল বারী লাভলু ও স্পোর্টস সেক্রেটারি মো. ফিরোজুল ইসলাম। ২৮ সেপ্টেম্বর তলব করা হয়েছে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি মো. আবদুস সোবহান, উইমেন্স অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি আসমা খানম বানু, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি গোলাম কায়সার আহমেদ, সদস্য মো. আবদুল জব্বার ও মো. আবদুল আজিজকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের জন্য ২০১৪ সালে নোটিশ দেয় দুদক।
এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে ওই ১৭ নেতার বিরুদ্ধে দুদকের পদক্ষেপ জানতে চান। সে বিষয়ে ওইদিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক রুলের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মো. মশিকুর রহমানসহ বিমানের ১৭ নেতার দুর্নীতি তদন্তে দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের আদেশ দেন। তারও আগে বিমানের সাবেক এমডি মোসাদ্দিক আহম্মেদসহ বেশ কয়েকজন সিবিএ নেতার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে এভিয়েশন সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিমানের দুর্নীতিবাজ ‘রাঘববোয়াল’দের আড়াল করতে সাবেক সিবিএ নেতাদের বারবার সামনে নিয়ে আসছে দুদক। কিন্তু মূল গডফাদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পাইলট নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও কার্গো বাণিজ্যের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা দামের ৮ এয়ারক্রাফট ক্ষতিগ্রস্ত করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে দুদক এখনো ব্যবস্থা নেয়নি। পাইলট নিয়োগের মূল গডফাদার ক্যাপ্টেন সাজিদ হোসেন এখনো বহালতবিয়তে আছেন বিমানে।
জানা গেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ১৪ পাইলট নিয়োগের মূল হোতা ছিলেন বিমানের চিফ অব ট্রেনিং ক্যাপ্টেন সাজিদ হোসেন। অভিযোগ আছে, নিয়োগকৃত এসব পাইলটের অধিকাংশেরই বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও যোগ্যতা ছিল না। ১৪ জনেরই বিরুদ্ধে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ট্রেনিংয়ে ফেল, দুর্ঘটনা ঘটানো এবং চাকরিচ্যুত হওয়ার অভিযোগ আছে। নিয়োগকৃত এক পাইলট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি পরিবারের সদস্য। যাত্রী কেবিনে কার্গো পণ্য বহন করে বিমানের ৮ এয়ারক্রাফটের ভয়াবহ ক্ষতির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের মূল সদস্য ও ক্যাপ্টেন সাজিদের স্ত্রীও নিয়োগ পেয়েছেন কো-পাইলট হিসাবে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এলেও এখন পর্যন্ত দুদক থেকে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী অবশ্য বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ও সঠিক দিক বিবেচনা করে নিয়োগ চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে। বিষয়টি দুদককেও জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত সব ধরনের ডকুমেন্টও দুদকে প্রদান করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুদক।
-B










