প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা- পর্যটকশূন্য বান্দরবান
পর্যটক বাড়ার মৌসুমে হঠাৎ পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে বান্দরবান। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর এমন সময়ে পর্যটকে মুখরিত থাকে বান্দরবান। কিন্তু হঠাৎ দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। বান্দরবানে এখন সুনসান নীরবতা। দেখা নেই পর্যটকের। ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমেছে স্থবিরতা। এতে বেকায়দায় পড়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি জেলার রুমা ও রোয়াংছড়ি এলাকায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা বাড়ছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে যৌথবাহিনী। এ অবস্থায় থানচি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও বান্দরবান সদর এলাকার পর্যটনস্পটগুলো ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হলেও রুমা-রোয়াংছড়ি এলাকার পর্যটনস্পট ভ্রমণে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ অবস্থায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ছে সবুজে ঘেরা এ পাহাড়ি জেলা।
এতে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বান্দরবানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রুমা-রোয়াংছড়ি ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করছে স্থানীয় প্রশাসন। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সে বিষয়েও কোনো নির্দেশনা নেই। পর্যটক উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। হোটেল-মোটেলগুলোও প্রায় ফাঁকা। হোটেল মালিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানান, বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে যৌথবাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করায় পর্যটকবাহী গাড়ি রুমা-রোয়াংছড়ি এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছে স্থানীয় প্রশাসন। নীলগিরি ও সদর এলাকার কয়েকটি স্পটে গাড়ি চলাচল করছে। এ কারণে পর্যটকের উপস্থিত নেই বললেই চলে।
এর আগে বুধবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানিয়েছেন, তথাকথিত হিজরতের নামে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর গ্রেফতার ১২ জনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পার্বত্য এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু হয়। মূলত, হিজরতের নামে ঘরছাড়া এই উগ্রবাদীদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনতেই অভিযানে নেমেছে র্যাব।
যেহেতু বান্দরবান দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা এবং পর্যটকরা সেখানে ঘোরাফেরা করেন, এজন্য স্থানীয় প্রশাসন ওই এলাকায় পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
-B










