ভারতের আকাশ দখলে এয়ারবাস-বোয়িংয়ের প্রতিযোগিতা

নয়াদিল্লি : ভারতের জনসংখ্যার অতি ছোট অংশ আকাশপথে ভ্রমণ করলেও দেশটিতে উড়োজাহাজ চলাচল দ্রুত বাড়ছে।
ক্রমবর্ধমান এ বাজারের দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছে দুই উড়োজাহাজ নির্মাতা জায়ান্ট এয়ারবাস ও বোয়িং। ভারতে শুরু হওয়া ফ্ল্যাগশিপ অ্যারো ইন্ডিয়া এক্সিবিউশনে লাভজনক চুক্তি করতে প্রস্তুত শীর্ষ দুই উড়োজাহাজ নির্মাতা।
আগামী জুনে ভারতের নয়াদিল্লিতে বসবে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) বার্ষিক সাধারণ সভা। যাকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম এ অর্থনীতির বাজারশক্তির আরেকটি প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণ ঘটছে। উড়োজাহাজ বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর এটি তৃতীয় বৃহত্তম দেশ।
এ বিষয়ে এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান রেমি মাইলার্ড বলেন, ‘বৈশ্বিক অ্যারোস্পেসের উদীয়মান নক্ষত্র ভারত। এটি বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বাজার এবং আগামী ২০ বছর এভাবেই থাকবে।’
এয়ারবাসের প্রতিদ্বন্দ্বী বোয়িংও বেঙ্গালুরুতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে এবং নিজেদের হিস্যা বাড়াতে সমানভাবে আশাবাদী। বোয়িং ইন্ডিয়ার প্রধান সলিল গুপ্ত বলেন, ‘ভারত এ গ্রহের সবচেয়ে গতিশীল বাজার এবং নিঃসন্দেহে এটি সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ।’
বোয়িংয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আকাশপথে ভ্রমণে প্রবৃদ্ধির ফলে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষত ভারতে প্রতি বছর ৭ শতাংশেরও বেশি উড়োজাহাজ চলাচল বাড়বে। ভারতের উড়োজাহাজ বাজারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে এয়ারবাস ইন্ডিয়া রেমি মাইলার্ড বলেন, ‘ভারতে ব্যক্তিপ্রতি উড়োজাহাজ ভ্রমণের হার মাত্র দশমিক ১২, যেখানে চীনে এটি দশমিক ৪৬।’
ভারতে ট্রেনে চলাচল খুবই জনপ্রিয়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আয়তনের দেশটিতে ট্রেনযাত্রা বেশ ধীরগতির ও বিশৃঙ্খলপূর্ণ। বোয়িং অনুমান করছে, প্রতিদিন ১ কোটি ৮০ লাখ ট্রেন যাত্রীর মাত্র ২ শতাংশ উড়োজাহাজে উঠলে বাজারের আকার দ্বিগুণ হবে। বর্তমানে এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো ভারতে দৈনিক ৪ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী পেয়ে থাকে।
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এয়ারলাইনস খাতের বিকাশকে অগ্রাধিকার দেন। ২০১৬ সালে এক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ছোট শহরের সঙ্গে মহানগরের আকাশ যোগাযোগ বৃদ্ধি।
এক দশকে ভারতে বিমানবন্দর দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০১৪ সালের ৭৪টি থেকে গত বছর ১৫৭টিতে পৌঁছেছে। সরকার এ খাতে বিপুল বিনিয়োগ করছে এবং ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষ ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩৫০-৪০০-এ উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী ২০ বছরে ৩০ হাজার পাইলট ও সমানসংখ্যক প্রকৌশলী প্রশিক্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রয়েছে, এয়ারবাস ও বোয়িং এতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
ভারতের এভিয়েশন খাতে পরবর্তী বড় পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রুটে ঘটবে বলে মনে করছে জায়ান্ট কোম্পানিগুলো। এয়ারবাসের রেমি মাইলার্ড বলেন, ‘যে বিপ্লব আমরা ভারতীয় অভ্যন্তরীণ বাজারে দেখেছি, তা এখন দূরপাল্লার বাজারে ঘটছে।’
বোয়িংয়ের সলিল গুপ্ত জানান, দীর্ঘপাল্লার আকাশ পরিষেবায় ব্যবহৃত বড় ক্রয়াদেশ প্রত্যাশা করছেন তারা। কারণ আগামী ২০ বছরে ভারতে বড় উড়োজাহাজের সংখ্যা মোট আকাশযানের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছবে। এ সময়ের মধ্যে ভারতীয় বাজারে কমপক্ষে ২ হাজার ৮৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ লাগবে। বাজারের প্রবৃদ্ধির কারণে যুক্ত হবে এর তিন-চতুর্থাংশ, আর বাকিগুলো পুরনো উড়োজাহাজের স্থলে প্রতিস্থাপন হবে।
২০২৪ সালে এয়ারবাসের সরবরাহ করা ৭৬৬টি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের প্রায় ১০ শতাংশ বা ৭২টি ভারতীয় এয়ারলাইনসের জন্য বরাদ্দ ছিল। অবশ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত বিতর্ক ও ধর্মঘটে পড়া বোয়িং ওই বছরের সরবরাহের পরিমাণ প্রকাশ করেনি।
এদিকে ২০২৩ সালে এয়ার ইন্ডিয়া ৪৭০টি উড়োজাহাজ কিনেছিল, যার ২৫০টি এয়ারবাস ও ২২০টি বোয়িংয়ের। এরপর গত বছর আরো ১০০টি এয়ারবাসের ক্রয়াদেশ করেছে। দেশটির বৃহত্তম এয়ারলাইনস ও স্বল্পমূল্যের ক্যারিয়ার ইন্ডিগো ২০২৩ সালে বেসামরিক উড়োজাহাজের ইতিহাসে সর্বাধিক ৫০০টি এয়ারবাসের ক্রয়াদেশ করে। এরপর গত বছর আরো ৩০টির ক্রয়াদেশ দিয়েছে।
-B










