২০২৪ সালে উড়োজাহাজ ভাড়া বাড়বে

জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, গাজা ও ইউক্রেনে যুদ্ধ, উচ্চ চাহিদার বিপরীতে সীমাবদ্ধ ধারণক্ষমতা এবং কর্মী স্বল্পতার কারণে ২০২৪ সালে উড়োজাহাজ ভাড়া বাড়বে।
এভিয়েশন খাত বিশ্লেষকদের মতে, এয়ারলাইনসের উচ্চ পরিচালন ব্যয়, ব্যয়বহুল পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার, মূল্যস্ফীতির চাপ ও সরবরাহ চেইনে বাধার কারণে আগামী বছর উচ্চ ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) তথ্যানুসারে, আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীপ্রতি প্রকৃত (রিটার্নসহ) ভাড়া ২০২৩ সালে গড়ে ২৮৮ ডলারে উঠেছে, যা ২০২২ সালে ছিল ২৮৪, ২০২১ সালে ২৩১ ও ২০২০ সালে ছিল ২১৬ ডলার। তবে এটা ২০১৯ সালে ছিল ৩১৫ ডলার।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে উত্তর আমেরিকা যেতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে একটি ইকোনমি ক্লাস টিকিট (ওয়ান ওয়ে) ট্যাক্স এবং ফি বাদ দিয়ে ৫৪৪ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে, যা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৩৬ ডলারের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রাক-মহামারী স্তরের তুলনায় বিমান ভাড়া গড়ে ৬ শতাংশ বেড়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এয়ারলাইনস খাত নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এজন্য ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে। যার বেশির ভাগ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে।
আইএটিএ জানায়, আগামী দিনের জ্বালানি হবে সাসটেইনেবল এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ)। এটা এক ধরনের জৈব জ্বালানি, যা প্রথাগত জেট ফুয়েলের তুলনায় কম কার্বন নিঃসরণ করে। এটা চালু করতে না পারলে ২০৫০ সালে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাত ৬৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার চলতি বছর ৩ থেকে ২০২৪ সালে ৬ শতাংশ বাড়বে। এসএএফ প্রচলিত জেট ফুয়েলের তুলনায় তিন গুণ বেশি ব্যয়বহুল। ফলে এয়ারলাইনসগুলোকে যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে।
আএটিএর আঞ্চলিক (আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য) ভাইস প্রেসিডেন্ট কামিল আল-আওয়াধি বলেন, ‘আপনি যদি পরিবেশসচেতন হতে চান, কার্বন নিঃসরণ কমাতে চান, তাহলে আপনাকে একটি বাড়তি খরচ দিতে হবে। অবশ্যই এটি ভ্রমণ মূল্যের সঙ্গে যুক্ত।’
আইএটিএ পূর্বাভাস করেছে, চলতি বছর ৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টন এসএএফ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতি টনের দাম ২ হাজার ৫০০ ডলার (জেট ফুয়েলের দামের ২ দশমিক ৮ গুণ)। ফলে এয়ারলাইনসগুলোর জ্বালানি খরচ এরই মধ্যে ৭৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার বেড়েছে। ২০২৪ সালে এসএএফ উৎপাদন মোট জ্বালানি খরচের শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে, যা আগামী বছরের জ্বালানি খরচের সঙ্গে ২৪০ কোটি ডলার যোগ করবে।
এছাড়া রয়েছে যাতায়াতের উচ্চ চাহিদা, যা উড়োজাহাজের ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বজুড়ে ৩০টি মার্কেটে ২৪ হাজারের বেশি লোকের ওপর জরিপ করেছে ব্রিটিশ সংস্থা ইউগভ। চলতি ডিসেম্বরে জরিপে অংশ নেয়া ৭১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা ১২ মাসের মধ্যে দেশে বা বিদেশে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ৮৫ ও সৌদি আরবের ৮২ শতাংশ ভোক্তারা ২০২৪ সালের সর্বোচ্চ মাত্রায় ভ্রমণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিশ্বব্যাপী ২০২৪ সালে প্রায় ৪৭০ কোটি লোক ভ্রমণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ২০১৯ সালে রেকর্ড করা ৪৫০ কোটি প্রাক-মহামারী স্তরকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড অর্জন করবে।
-B










