উড়োজাহাজ তো নয় যেন ভাসমান প্রাসাদ

১৯৬৭ সালে ব্রুনেইয়ের সিংহাসনে বসেন ইবনে ওমর আলী সাইফউদ্দীন। নিজের বিলাসবহুল প্রাসাদের পেছনে খরচ করেছেন কোটি কোটি টাকা, আবার নিজের ব্যক্তিগত প্রাইভেট জেট উড়োজাহাজ টিকেও মুড়িয়েছেন সোনা দিয়ে। যেটিকে বলা হয় ভাসমান প্রাসাদ বা উড়ন্ত প্রাসাদ।
ভাসমান এই প্রাসাদ নিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করেন তিনি। বোয়িং ৭৪৭-৪০০ উড়োজাহাজটিকে মোড়ানো হয়েছে সোনা দিয়ে। এজন্য এটিকে বিশ্বের অন্যতম দামি উড়োজাহাজ বলা হয়।
বর্তমানে একটি বোয়িং উড়োজাহাজের দাম বাংলাদেশী টাকায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। তবে ব্রুনেই সুলতান যখন উড়োজাহাজটি কেনেন তখন তার গুনতে হয়েছিল এক হাজার কোটি টাকা।
এরপর এটিকে নিজের মতো করে সজ্জিত করেন বিভিন্ন বিলাসী জিনিসপত্র দিয়ে। এজন্য এর পেছনে খরচ হয়েছে আরো প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশী টাকায় এই উড়োজাহাজের দাম প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা।
এই টাকা দিয়ে উড়োজাহাজে দেয়া হয় সোনার প্রলেপ। এ ছাড়াও উড়োজাহাজটিকে সুসজ্জিত করতে আরো বিভিন্ন বহু মূল্যবান ধাতু ব্যবহার করা হয়েছে। সুলতানের ব্যবহারের জন্য তৈরি বাথরুমটি পুরোটাই তৈরি করা হয়েছে সোনা দিয়ে।
উড়োজাহাজের ভেতর প্রাইভেট অফিস থেকে শুরু করে একটি মাস্টার বেডরুম, কাস্টম টেবিলওয়্যার, টাইনিং হল, কনফারেন্স হলসহ বিশাল বড একটি লাউঞ্জ আছে।
সুলতানের বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৪১৬ জন। তবে সুলতানের সাথে এত মানুষ এতে থাকে না কখনোই। পরিবারের মানুষ বা ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া এই উড়োজাহাজে যাওয়ার অনুমতি নেই কারো। সুলতান যেখানেই যান না কেন এই উড়োজাহাজেই ভ্রমণ করেন। বিশেষ করে কোনো দেশে সফরে গেলে এই উড়োজাহাজই তার বাহন।
তবে এ ছাড়াও সুলতান হাসানাল বলকিয়ার আরো একটি আড়াই হাজার কোটি টাকার বোয়িং ৭৬৭-২০০ উড়োজাহাজ আছে। ১৩০০ কোটি টাকা মূল্যের একটি এয়ারবাসও রয়েছে।
-B










