ভিসা পদ্ধতি সহজ হলেও ওপারে হয়রানির অভিযোগ

করোনা সংক্রমণের দুই বছর ভ্রমণ ভিসা বন্ধ থাকায় ভারত -বাংলাদেশ যাতায়াত বন্ধ ছিল। সম্প্রতি পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় ভারতে যাতায়াত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত সাত দিনে সর্বোচ্চ পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেছেন।
এদিকে দেশে ফেরার পথে ওপারে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন পাসপোর্টযাত্রীরা। ভারত থেকে ফেরা যাত্রীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ই-টোকেন কিংবা ভিসা ব্যবস্থাপনা ভারত সরকার আগের তুলনায় সহজলভ্য করলেও সীমান্তের ওপারেই রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। সেই সাথে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্টে রয়েছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও বিএসএফের চরম দুর্ব্যবহার। ভারত ঘুরে আসা অনেক বাংলাদেশী সেখানে দুর্ব্যবহার আর অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে এসে প্রতিদিন অভিযোগ করছেন।
তবে বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্তরা বলছেন, দুই দেশের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কেউ যাতে এখানে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য সব অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নগরী কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। ঈদ সামনে রেখে কেনাকাটা করতে ভারত যাতায়াত কয়েক গুণ বেড়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের।
ইমিগ্রেশন তথ্যমতে, গত ২৫ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পাঁচ দিনে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ১৬ হাজার ৬৩৫ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতে যাতায়াত করেছে। তাদের মধ্যে ভারতে গেছে ১১ হাজার ৬৪৩ জন আর ভারত থেকে ফিরেছে ৪ হাজার ৯৯২ জন। পাঁচ দিনের মধ্যে ২৯ এপ্রিল সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ১৭৮ জন পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে গেছে।
রোববার চেকপোস্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। দীর্ঘ মানবস্রোত আর ব্যস্ততার হুড়োহুড়ি। কত দ্রুত সময়ে যাওয়া যায়, সবার মাঝে যেন এমন পাল্লা। পা বাড়ালেই বিদেশ। সামনে ঈদকে কেন্দ্র করে এ অবস্থা যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। তাতে ঝুঁকি ঝামেলা, দুর্ভোগ কীই-বা যায় আসে। ইমিগ্রেশন থেকে দীর্ঘ লাইন প্রায় ২৫০ গজ বাইরে যাত্রীরা দাঁড়িয়ে থেকে তাদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে দেখা গেছে।
তবে যাত্রীদের জন্য বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সেবার নামে একটি যাত্রী টার্মিনাল করলেও সেখানে কোনো সেবার বালাই নেই বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। আবার সেই টার্মিনালের সেবার নামে বন্দর কর্তৃপক্ষ ৫০ টাকা টার্মিনাল চার্জও আদায় করছে। আর ভ্রমণ-কর বাবদ সরকারকে দিতে হচ্ছে পাসপোর্ট প্রতি ৫০০ টাকা।
-Biplob










