মার্কিনদের বিশ্ব ভ্রমণের প্রবণতা নতুন বছরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে
নতুন বছরে মার্কিন নাগরিকরা বড় আকারে বিশ্ব ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মহামারী নিয়ে শঙ্কা কমে যাওয়ায় এবং সীমান্ত বিধিনিষেধ তুলে দেয়ায় এশিয়া-ইউরোপে ছুটছেন তারা। নতুন বছরে এ প্রবণতা আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে পরিবারগুলো কভিডের কারণে দুই বা তিন বছরের জমে থাকা ভ্রমণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন।
খবর অনুসারে, বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের বিশ্ব ভ্রমণের ব্যয় কমেছে। পাশাপাশি কিছু এয়ারলাইনস এরই মধ্যে বিদেশী গন্তব্যে দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইট যুক্ত করেছে। এগুলো মার্কিনদের দেশের বাইরে ভ্রমণের প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভ্রমণ বিষয়ক ম্যাগাজিন কনডে নাস্ট ট্রাভেলারের নির্বাহী সম্পাদক এনি ফ্লোরিও বলেন, ভ্রমণ শিল্পে উল্লম্ফন ঘটতে যাচ্ছে।
পর্যটন খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেস্টিনেশন অ্যানালিস্টের জরিপ অনুসারে, ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অভ্যন্তরীণের চেয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বেশি আগ্রহী। এ হার গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ পয়েন্ট বেশি।
এদিকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ২০২৩ সালের ফ্লাইট অনুসন্ধানের মধ্যে ৬২ শতাংশই আন্তর্জাতিক গন্তব্যের জন্য ছিল। এ হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি। ট্রাভেল বুকিং কোম্পানি হপারের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের শীর্ষ তিনটি প্রবণতার মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ। চলতি বছর এটি বড় ধরনের প্রত্যাবর্তন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি কোয়াকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভ্রমণ অনুসন্ধান এক বছর আগের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য এ অনুসন্ধান আবার ১৩ শতাংশ কমেছে। অনলাইন ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস স্কয়ারমাউথের তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে মার্কিন নাগরিকরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য যে বীমা করেছিল তা ২০১৯ সালের স্তরের সমান। মহামারী শুরুর পর এ হার প্রথমবারের মতো কভিডপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের জন্য বুক করা ভ্রমণের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য উদ্বেগ এবং দেশের বাইরে কভিড-সম্পর্কিত বিধিনিষেধ যেমন পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা, বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন ও বিদেশী পর্যটকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা মার্কিন ভ্রমণকারীদের ২০২০ ও ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় আটকে রেখেছিল। ২০২২ সালেও বিভিন্ন দেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন নাগরিকরা স্বাধীনমতো ভ্রমণ করতে পারেনি। সবদিক থেকে ২০২৩ সালকে কভিডজনিত নিষেধাজ্ঞামুক্ত বিশ্ব হিসেবে মনে করা হচ্ছে। ফলে মার্কিনরা এবার ইচ্ছামতো এশিয়া থেকে ইউরোপ ছুটে বেড়াতে পারবেন।
রানওয়ে ট্রাভেলের প্রধান নির্বাহী জেসিকা গ্রিসকাভেজ বলেন, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে দেশের বাইরে ভ্রমণের তীব্র চাহিদা রয়েছে। কারণ কভিডজনিত কারণে দুই-তিন বছর তারা ভ্রমণ করতে পারেনি। নতুন বছরে তারা সেই ঘাটতি পূরণ করে নেবে বলেই মনে হচ্ছে। অফিসে কাজের ক্ষেত্রে হাইব্রিড মডেলও তাদের ভ্রমণকে সহজ করে দিচ্ছে।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে কভিডজনিত বিধিনিষেধ তুলে দেয়ায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভ্রমণ বাড়ছে। এক্ষেত্রে বিদেশী পর্যটন আকর্ষণে এ অঞ্চলের দেশগুলোও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৩ সালে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোয় পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। হপারের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণের চাহিদা বেড়েছে এশিয়ায়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অনুসন্ধানের ২৭ শতাংশই এশিয়ার শহরগুলোয়। এক বছর আগেও এ হার ১৯ শতাংশে ছিল। প্রকৃতপক্ষে ডিসেম্বরের শুরুতে শীর্ষ চাহিদার ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট গন্তব্যগুলোর মধ্যে আটটি এশিয়া ও ওশেনিয়ার মধ্যে ছিল। জাপানের টোকিও, ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি ও ব্যাংকক শীর্ষ তিন গন্তব্যের মধ্যে ছিল।
মোট সংখ্যার দিক থেকে ইউরোপ সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অনুসন্ধানের এক-তৃতীয়াংশই দখল করে আছে ইউরোপীয় শহরগুলো। এ হার ২০২১ সালের সমানই। গুগল ফ্লাইটস ডাটা অনুসারে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শীর্ষ অনুসন্ধান করা গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে লন্ডন, হো চি মিন সিটি, প্যারিস, দিল্লি, রোম ও লিসবনের মতো শহরগুলো।
-B










