নতুন সাজে বান্দরবান-মন কাড়বে পর্যটকের

পাহাড় ঘেরা পার্বত্য জেলা বান্দরবান। নদী, পাহাড় ঝর্ণা আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি ওই জেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিনোদন স্পট।
পর্যটন জেলা হিসেবে বান্দরবানে ছুটে যাচ্ছে অসংখ্য পর্যটক আর এবার পূজারীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মনোরম পরিবেশে সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য পৌর শহরের লালমোহন বাহাদুর বাগান এলাকায় নির্মিত হচ্ছে ৫৭ ফুট দীর্ঘ গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার। আর এই বিহারের নির্মাণের কাজ শেষ হলে পূজারী’রা তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদনের পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও এর সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে পারবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।
পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত বিশাল এ বুদ্ধ মূর্তির সৌন্দর্য ইতোমধ্যে নজর কেড়েছে ভ্রমণ পিপাসুদের। প্রাকৃতিক পরিবেশে নান্দনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত গোল্ডেন টেম্পলটিতে ফুটে উঠেছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ইতিহাস ঐতিহ্য।
বান্দরবান পৌর শহরের লালমোহন বাহাদুর বাগান এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’র নিজস্ব জমিতে প্রায় ২ একর জায়গাজুড়ে সুদক্ষ কারিগর আর স্থাপত্য শিল্পীর অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে নির্মাণাধীন রয়েছে এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহারের কাজ।
এই বিহার পুরোদমে চালু হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নসহ পর্যটকদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশাবাদ স্থানীয়দের।
লালমোহন বাহাদুর বাগান এলাকায় ব্যবসায়ী পরিমল দাশ বলেন, এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার খুবই সুন্দর। এর রং দেখলেই মন ভরে যায়। এটি চালু হলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এখানে পূজা করবে এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এর সৌন্দর্য উপভোগে ছুটে আসবে।
প্রধান সড়কের পাশে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতায় নির্মাণাধীন ওই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার ইতিমধ্যে নির্মাণ হয়েছে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের কারু কাজের আদলে- ১টি ৫৭ ফুট উচ্চতার দণ্ডায়মান বৌদ্ধ মূর্তি, ১টি সুদৃশ্য গেট, ২টি সিংহ, ২টি ড্রাগন, ২টি হাতি, ১টি প্যাগোডা, ১টি ফোয়ারা আর ১টি আকর্ষণীয় আসনসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
গোল্ডেন টেম্পল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্পূর্ণ বিদেশি ডিজাইনে দৃষ্টিনন্দন এ বুদ্ধ মূর্তি ও টেম্পলটির নির্মাণশৈলী ফুটিয়ে তুলতে কাজ করছেন দেশি-বিদেশি কারিগররা। দৃষ্টিনন্দন টেম্পলটির কাজ এখনো চলছে। কাজ সমাপ্ত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মানুসারীদের জন্য এটি হবে তীর্থ স্থান এবং পর্যটকদের জন্য হবে দর্শনীয় স্থান। শুধু তাই নয়, টেম্পলটি চালু হলে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
গোল্ডেন টেম্পলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী এবং মেঘলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কম্পিউটার প্রশিক্ষক মো. মহিউদ্দিন বলেন, গোল্ডেন টেম্পলটি দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রচুর পর্যটককে ভিড় করতে দেখা গেছে। নবনির্মিত এই গোল্ডেন টেম্পলটি আমাদেরও অনেক ভালো লাগে।
গোল্ডেন টেম্পলের ডিজাইনার হ্লা মং মারমা জানান, ইতোমধ্যে নবনির্মিত গোল্ডেন টেম্পলটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে পূজারি ও দর্শনার্থীদের জন্য।
গোল্ডেন টেম্পল নির্মাণের উদ্যোক্তা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এই প্রতিবেদককে জানান, পূজারিদের জন্য তীর্থস্থান ও পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থানের কথা চিন্তা করে গোল্ডেন টেম্পলটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
-Biplob










