বাংলাদেশ—সৌদি আরব বিমান চলাচল সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ঢাকা: ২৩ আগস্ট সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশ পক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী এবং সৌদি আরবের পক্ষে সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আব্দুল আজিজ আল দুয়াইলেজ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী ড তৌফিক বিন ফাজওয়ান আল রাবিয়াহ, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসেফঈসা আল দুলাইহান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃমোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মফিদুর রহমান সহ দুই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিমান চলাচল সংক্রান্ত নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বাংলাদেশের মনোনীত বিমানসংস্থা বাংলাদেশের যেকোনো পয়েন্ট হতে সৌদি আরবের যেকোনো আন্তর্জাতিক পয়েন্টে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।
উল্লেখ্য ২০১২ সালের সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশী বিমান সংস্থা সৌদি আরবের শুধু জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম ওমদিনা এই চারটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করার সুযোগ পাচ্ছে।
এছাড়াও, নতুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বাংলাদেশ হতে সৌদি আরবে পরিচালিত ফ্লাইট এর ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: ৩ মাসের জন্য পরিবার নিতে পারবেন সৌদি আরব প্রবাসীরা
বর্তমানে নির্ধারিত ৪৯ টি যাত্রী ও কার্গো ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তে ৪৯ টি যাত্রী ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি এবং নতুন করে ২১ টি কার্গো ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি সুবিধা পাবে বাংলাদেশের বিমান সংস্থাগুলো।
আরও পড়ুন: ৩ মাসের জন্য পরিবার নিতে পারবেন সৌদি আরব প্রবাসীরা
২১টি কার্গো ফ্রিকোয়েন্সির ক্ষেত্রে ফিফথ ফ্রিডম ট্রাফিক রাইটস এর আওতায় চারটি মধ্যবর্তী অথবা দূরবর্তী পয়েন্ট ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে। এ চারটি পয়েন্ট পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ফলে দুই দেশের এভিয়েশন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো বৃদ্ধি পাবে। এটি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সহযোগিতার সকল ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরো বলেন,“বাংলাদেশের পর্যটনের পরিকল্পিত উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটন মহা-পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাবনা কে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের পর্যটনখাতে দুই দেশের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি আরব বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করলে তাকে আমরা স্বাগত জানাবো।”
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের বন্ধুত্ব অত্যন্ত দৃঢ়। সৌদি আরবে একটি বড় বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে যারা দুই দেশের উন্নয়নেই ভূমিকা রাখছেন। নতুন সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বিমান চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই দেশ এর সুফল পাবে।”
আরও পড়ুন: বাংলাদেশিদের জন্য দরজা খুলছে সৌদি আরব
সৌদি আরবের মন্ত্রী আরো বলেন, “বাংলাদেশের আন্তরিক আতিথেয়তা এবং চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে বাংলাদেশের পর্যটনের বিকশিত হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। যে কোনো পর্যটক বাংলাদেশের আতিথেয়তাকে আজীবন মনে রাখবে। সৌদি আরব ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পর্যটনের উন্নয়নে সহায়তা করবে।”
T










