গ্রিসে বৈধতা সঙ্কটে বাংলাদেশী নাগরিক

‘এক যুগ ধরে অবৈধভাবে গ্রিসে থাকায় আজো দেশের মুখ দেখতে পারছি না। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে রয়েছি অনেক দূরে। এবার দেশে যাওয়ার জন্য গ্রিস সরকার বৈধতা অর্জনের সুযোগ দিয়েছে আমাদের। কিন্তু যথাসময়ে পাসপোর্ট না পাওয়া গেলে এই সুযোগটিও আমাকে হারাতে হবে।
পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য দূতাবাসে গেলে কর্মকর্তারা বলছেন, তোমার পাসপোর্ট ঢাকা অফিসে এখনো আটকে আছে। আবার ঢাকায় জেলা পুলিশ কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তারা বলছেন, এপ্রিল মাসেই তদন্ত করে আমার পক্ষে রিপোর্ট তারা পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু দূতাবাসের কর্মকর্তারা অনলাইন সার্চ করে বলছেন, পুলিশ রিপোর্টের কারণে পাসপোর্ট আটকে আছে। তারা এর বেশি কিছু জানেন না।’
গ্রিসের রাজধানী এথেন্স দূতাবাসে গিয়ে ১২ বছর আগে হাতেলেখা পাসপোর্টে পাড়ি জমানো প্রবাসী বাংলাদেশী আবুল কালাম আজাদ আবেদন করে যথাসময়ে পাসপোর্ট না পাওয়ায় ক্ষোভের কথা জানাতে গিয়ে এভাবেই তার মনের কথাগুলো বলেন। শুধু আবুল কালাম আজাদই নন, এমন শত শত অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশী গ্রিস সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বৈধতার জন্য পাসপোর্ট পেতে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট বিভাগে হাজির হচ্ছেন, খোঁজ নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা দেশটিতে থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করে বলছেন, দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদেরকে বলছেন, ‘পাসপোর্ট অধিদফতরের সার্ভারে দেখাচ্ছে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট আসেনি।’ তাদের সার্ভারে পুলিশ ভেরিফিকেশন পেন্ডিং দেখাচ্ছে। অথচ আবেদনকারী হিসেবে আবেদনের অবস্থা সার্ভারে যাচাই করতে গেলে সেখানে দেখাচ্ছে, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন অ্যাপ্রুভড’। অন্য দিকে পুলিশও বলছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পাঠিয়েছে।
গ্রিস প্রবাসী আবুল কালাম চলতি বছরের ২ মার্চ মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) জন্য আবেদন করলে বাংলাদেশ দূতাবাস তার আবেদন জমা নিয়ে ২৫ এপ্রিল পাসপোর্ট সংগ্রহ করার জন্য রসিদ দিয়ে দেয়। পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পরও কেটে গেছে ৮ মাস। এরপরও তিনি পাসপোর্ট না পাওয়ায় এখন শঙ্কিত। এখন প্রশ্ন তিনি কি বৈধ হতে পারবেন? আবুল কালামের মতো পাসপোর্ট জটিলতায় আরো দুই হাজার প্রবাসীর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত বর্তমানে দূতাবাসের হিসাবে গ্রিসে ৩০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী অবস্থান করছেন, যাদের বেশির ভাগেরই বৈধ কাগজপত্র নেই।
দূতাবাস থেকে বলা হচ্ছে, গ্রিসে পাসপোর্ট নেই এমন দুই হাজার বাংলাদেশী রয়েছে, যাদের অনেকেই এমআরপির জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে পাঁচ শ’ আবেদন আছে, যারা বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তন করতে চায়। কিন্তু এসব প্রবাসীর আবেদন ঢাকায় আটকে আছে। দূতাবাস থেকে বারবার তাগাদা দেয়ার পরও আটকে থাকা পাসপোর্ট ছাপা হচ্ছে না বলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ দিকে, নানা জল্পনার পর বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তিটি গ্রিস সংসদে অনুমোদিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে প্রতি বছর চার হাজার কর্মী মৌসুমি কর্মভিসায় নেয়ার পাশাপাশি দেশটিতে থাকা অবৈধ ১৫ হাজার অভিবাসীকেও গ্রিস সরকার বৈধতা দেবে। অনিয়মিত বাংলাদেশীদের নিয়মিতকরণ বিষয়ে গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাস আরেকটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, নিয়মিত হওয়ার জন্য দুই বছরের বেশি মেয়াদ সম্পন্ন পাসপোর্ট, দূতাবাস থেকে পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি লাগবে। কিন্তু যাদের পাসপোর্ট নেই তারা এখন মহাবিপদে পড়েছেন। এ নিয়ে অনেকেই হতাশায় ভুগছেন।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ফলে অনিয়মিতদের বৈধকরণের সুযোগ আসছে। এ বছরই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।
বৈধতা পেলে অনেকেই উপকৃত হবেন। তবে বাংলাদেশীদের বৈধ হতে প্রথম শর্ত হচ্ছে মূল পাসপোর্ট লাগবে। বর্তমানে অনেকের পাসপোর্ট নেই। এ ক্ষেত্রে অনিয়মিত প্রবাসীদের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সমস্যা নিরসনে দূতাবাস এবং বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা ও প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করছেন।
-B










