মৌমাছির তৈরি ভাস্কর্য!

মানুষ ও প্রাণিজগত মিলে শিল্প সৃষ্টি করছে, এমন দৃষ্টান্ত সহজে চোখে পড়ে না। তবে স্লোভাকিয়ার এক শিল্পী মৌমাছির সাহায্য নিয়ে নিজের তৈরি কাঠামোর ওপর মৌচাকের মোম কাজে লাগিয়ে অভিনব ভাস্কর্য সৃষ্টি করছেন। তার নিজের তৈরি একটি কাঠামোর ওপর চাক বাঁধে মৌমাছি। তখন ত্রিমাত্রিক সেই কাঠামোটিকে আস্ত এক মৌচাকের মতোই দেখায়।
শিল্প ও প্রকৃতির মধ্যে মেলবন্ধনের বিষয়টি কিছুদিন আগেই মাথায় আসে ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট টোমাশ লিবার্টিনির। প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নেমে পড়েন কাজে। এজন্য তাকে গড়ে তুলতে হয়েছে পুরো একটি মৌমাছির খামার। সেখানে প্রায় ৬০ হাজার মৌমাছি এখন ভাস্কর্য তথা চাক বানানোর কাজে ব্যস্ত।
লিবার্টিনি বলেন, মৌমাছি নিয়ে কাজ করার পেছনে ‘প্রথাবিরোধী নায়ক’ রাখার একটা তাগিদ কাজ করেছিল। প্রাণী হিসেবে মৌমাছি নাজুক মনে হলেও তাদের সৃষ্টি অনেককাল স্থায়ী হয়, টিকে থাকে; যা মোটেই সাধারণ হিরোর মতো নয়।
তিনি জানান, নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরে নিজের স্টুডিওতে তিনি নিজের আইডিয়ার খসড়া তৈরি করেন। প্রথমে কম্পিউটারের মাধ্যমে ভাস্কর্যের ফ্রেম সৃষ্টি করা হয়। তারপর তিনি হাতে করে তার বা কোনো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে বাকি অংশ তৈরি করেন। সেই খাঁচাটিকে ঘিরে পরে মৌমাছি মোম দিয়ে মৌচাক গড়ে তোলে।
একটি ভাস্কর্য চূড়ান্তভাবে গড়ে তুলতে দুই সপ্তাহ থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে সবটাই নির্ভর করে আবহাওয়া ও আকার-আয়তনের ওপর।
মোমের এমন ভাস্কর্য পুরো বিশ্বের একাধিক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে শোভা পাচ্ছে। যেমন ‘নেফারটিটি’ নামের ভাস্কর্য প্রথমে রটারডামে লাইভ-ইনস্টলেশন ও তারপর আমস্টারডামে প্রদর্শিত হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের মুডাক মিউজিয়ামেও একটি শিল্পকর্ম শোভা পাচ্ছে। এমনকি নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত আধুনিক শিল্প মিউজিয়ামেও এমন একটি ভাস্কর্য রয়েছে।
-B










