২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ: বরাদ্দ বেড়েছে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন খাতে

আগামী অর্থবছরের (২০২২-২৩) বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। গতবছর অর্থমন্ত্রী চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিলেন। তবে সংশোধিত হয়ে এই বাজেটের আকার কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন খাতে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। সরকারি অর্থায়ন এবং বৈদেশিক ঋণ মিলে এক বছরে উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩ কোটি টাকা। বিশাল এই উন্নয়ন বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও শিক্ষা খাতে। এডিপির উল্লেখযোগ্য অংশ খরচ হবে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোতে, যা প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। চলতি মাসে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা পদ্মা সেতু প্রকল্পেও বড় বরাদ্দ রয়েছে।
গতকাল জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অবকাঠামো ও সামাজিক খাতে দ্রুত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দরিদ্র দূরীকরণের লক্ষ্যে সরকার পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে এডিপিতে বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করেছে।
এবারের বাজেট মোট জিডিপির ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের জন্য মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা চার লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ হিসাবে নতুন অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে দুই লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার কম-বেশি। যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশের অভ্যন্তর থেকে এক লাখ ২৮ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা এবং বিদেশ থেকে ঋণ নেবে এক লাখ ১৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরের উৎস হিসেবে ব্যাংক ঋণ নেওয়া হবে ৯৩ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। বাকিটা আসবে সঞ্চয়পত্র থেকে। এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। সেই সঙ্গে নতুন করে আরও ১১ লাখ মানুষকে সামাজিক সুরক্ষায় আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
অপরদিকে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। বাজেটে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৭ হাজার ০৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২,৬১৯ কোটি টাকা বেশি।
চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বাজেট উপস্থাপনকালে বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
বাজেট বক্তৃতায় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে পর্যটন শিল্পকে একটি উন্নত, টেকসই ও সমৃদ্ধ খাত হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পর্যটন খাত করোনা ভাইরাস মহামারির নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটন কার্যক্রম চালু রাখার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর প্রণয়ন করেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বমানের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও কমিউনিকেশন, নেভিগেটর অ্যান্ড সার্ভেইলেন্স এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম রাডার স্থাপন।
-B










