বাণিজ্যিক ভ্রমণে মন্দা - নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করছে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনসগুলো

কভিড-১৯ মহামারীর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেয়ায় বর্তমানে বৈশ্বিক পর্যায়ে আকাশপথে পর্যটকের যাতায়াত বাড়ছে। এর সুফল ভোগ করছে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনসগুলো। তবে করপোরেট বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সেভাবে ভ্রমণ করছে না। যে কারণে এয়ারলাইনসগুলো তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কাজ করছে।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারী আঘাত হানার আগে ব্যবসায়িক কাজে ভ্রমণ ছিল এ খাতের মূল উপার্জন খাত। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো কর্মী সংকটে ভুগছে। পাশাপাশি যাত্রীদের ভ্রমণ চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। ভ্রমণ কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগকারীরা জানান, ব্যবসায়িক ভ্রমণ যে হারে কমছে, পর্যটকদের ব্যয় সেখানে সামঞ্জস্য তৈরি করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনস ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপের তথ্যানুযায়ী, কভিড-১৯ মহামারী সংক্রমণের আগে বিজনেস ট্রিপের মাধ্যমে পর্যটক ব্যয়ের অর্ধেক আয় করত কোম্পানিগুলো। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির সিটগুলো বিক্রি করতে পারত এবং ছুটির দিনগুলোয় ফ্লাইট পরিচালনা করত। কয়েক মাস ধরে আলাস্কা এয়ারের বিজনেস ট্রাভেলের চাহিদা নভেল করোনাভাইরাস পূর্ব সময়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ নিম্নমুখী। সিয়াটলভিত্তিক কোম্পানিটি জানায়, আগামী বছর এয়ারলাইনসটি ৭৫ শতাংশ ভ্রমণ চাহিদা পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে আশাবাদী। বিশেষ করে কোম্পানিগুলো যখন ভ্রমণের বাজেট পুনর্নির্ধারণ করবে।
আলাস্কা এয়ারের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা শেন ট্যাকেট বলেন, ‘বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। কোম্পানিটি বিনোদনের জন্য প্রসিদ্ধ মেক্সিকো ও কোস্টারিকায় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ায় কোম্পানির নেটওয়ার্ক এখন ২০১৯ সালের ২৫ শতাংশের নিচে।’
জেটব্লু এয়ারওয়েজ সম্প্রতি দেয়া বিবৃতিতে জানায়, কোম্পানিটি নিউইয়র্ক থেকে বিনোদনের জন্য শীর্ষে থাকা জায়গাগুলো থেকে ফ্লাইট সংখ্যা কমাবে এবং ব্যবসায়িক খাতে স্থানান্তর করবে। সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস স্বল্প দূরত্বের ব্যবসায়িক দূরত্ব থেকে মাঝারি ও বড় রুটে স্থানান্তরে কাজ করছে বলে সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া কোম্পানিটি সকালে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে মধ্যরাতে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগও নিয়েছে।
এয়ারলাইনসগুলোর পাশাপাশি হোটেলগুলোও চাহিদা কমায় হিমশিম খাচ্ছে। বিবৃতিতে ম্যারিয়টস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও অ্যাকাউন্টিং ফার্মগুলোর বুকিং ২০১৯ সালের তুলনায় এখনো নিম্নমুখী। এছাড়া বড় কোম্পানিগুলোর রুম বুকিংও ধীরে বাড়ছে।
আরও পড়ুন: বড় ছাড়ে ব্যাংকক-ফুকেট-কলম্বো নিয়ে যাবে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স
ব্যবসায়িক ভ্রমণের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেছে মাস্টারকার্ড। তথ্যানুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক ও ইউরোপের দেশগুলো ব্যবসায়িক ভ্রমণ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব দেশে অধিকাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে ফিরেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো এখনো রিমোট ওয়ার্ককে প্রাধান্য দিচ্ছে। এয়ারলাইনসগুলোর নির্বাহীরা জানান, হাইব্রিড কর্মপরিবেশের কারণে মানুষ বর্তমানে বিজনেস ও বিনোদন ভ্রমণে সামঞ্জস্য আনতে পারছে।
ডেল্টা এয়ারলাইনস জানায়, কভিড-১৯ মহামারীর সময় থেকে সাশ্রয়ী মূল্যের সিটগুলোর তুলনায় প্রিমিয়াম কেবিন থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকান এয়ারলাইনস বিজনেস ও বিনোদন ভ্রমণের চাহিদার মাধ্যমে ভালো আয় করতে পারছে বলেও জানা গেছে। এয়ারলাইনসগুলোর কিছু নির্বাহীর আশা সেপ্টেম্বরে ব্যবসায়িক ভ্রমণের চাহিদা হয়তো বাড়বে। এ বিষয়ে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মালিকানা প্রতিষ্ঠান আইএজির প্রধান নির্বাহী লুইস গ্যালোগো জানান, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যবসায়িক ভ্রমণ কিছুটা পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে।
-B










