লোকসান বেড়েছে চীনের শীর্ষ তিন এয়ারলাইনসের

এখনো জিরো কভিড নীতি অব্যাহত রেখেছে চীন। কভিডের সংক্রমণ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন শহরে লকডাউন আরোপ করছে কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের ব্যবসা।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যৌথভাবে ২ হাজার ৮৪০ কোটি ইয়েন (৪১২ কোটি ডলার) লোকসান গুনেছে দেশটির শীর্ষ তিন এয়ারলাইনস। সংস্থাগুলোর লোকসানের পরিমাণ প্রথম প্রান্তিক থেকে বেড়েছে।
বিভিন্ন সুত্রে বলা হয়েছে, খুব কম সংখ্যক সংক্রমণ শনাক্তের পরও বিভিন্ন সময়ে লকডাউন আরোপ চীনা এয়ারলাইনসগুলোকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ করে দিতে বাধ্য করছে। পাশাপাশি সীমান্ত বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণও প্রায় স্থবির রয়েছে। এ অবস্থায় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছে।
সাংহাইভিত্তিক চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস জানিয়েছে, এপ্রিল-জুন সময়ে সংস্থাটির লোকসান ১ হাজার ৯০ কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে। যেখানে প্রথম প্রান্তিকে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ৭৮০ কোটি ইউয়ান। দ্বিতীয় প্রান্তিকে সংস্থাটির লোকসান অন্য দুই এয়ারলাইনসের চেয়েও বেশি। মূল কার্যক্রম পরিচালনা করা সাংহাই লকডাউনের মধ্যে থাকায় সংস্থাটির লোকসানের পাল্লাও ভারী হয়েছে।
মার্চের শেষ দিকে চীনের ব্যবসায়িক কেন্দ্রটির আড়াই কোটি মানুষকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেয়া শুরু করে। ফলে এপ্রিলজুড়ে শহরের দুটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। মার্চের শেষ দিকে একটি মারাত্মক দুর্ঘটনার পর এয়ারলাইনসটি তার বোয়িংয়ের ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজগুলোকে সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড করে। এতেও সংস্থাটির লোকসান বেড়েছে।
এদিকে, বেইজিংভিত্তিক এয়ার চায়না দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ হাজার ৫০ কোটি ইউয়ান লোকসানের কথা জানিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনসটির এ লোকসানের পরিমাণ প্রথম প্রান্তিকের ৮৯০ কোটি ইউয়ানের চেয়ে বেশি।
কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধের কারণে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটির লোকসান বেড়েছে। অন্যদিকে এপ্রিল-জুন সময়ে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস ৭০০ কোটি ইউয়ান লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে। এটি প্রথম প্রান্তিকে ৪৫০ কোটি ইউয়ান লোকসানের চেয়ে বেশি।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে শীর্ষ তিন এয়ারলাইনসের লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি ইউয়ান। এটি গত বছরের একই সময়ে ১ হাজার ৬৭০ কোটি ইউয়ানের চেয়ে অনেক বেশি।
-B










