হিসাবে জটিলতা - বিমান ১৬ মাস যাত্রীতালিকা দেয়নি

গত ১৬ মাস ধরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) প্রতিদিনের যাত্রীতালিকা জমা দেয়নি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বারবার চিঠি দিয়েও সাড়া পায়নি বেবিচক। এমন পরিস্থিতিতে বিমানের কাছে পাওনা রাজস্ব হিসাব করায় জটিলতা দেখা দিয়েছে।
প্রত্যেক যাত্রীর বিমান ভাড়া থেকে এমবারগেশন ফি, ট্রাভেল ট্যাক্স, ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স, এক্সাইজ ডিউটি ট্যাক্স ছাড়াও বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য ৯৩৩ টাকা নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার পর প্রতিদিনের যাত্রীতালিকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পোস্ট ফ্লাইট অ্যানালাইসিস (পিএফএ) সেকশনে জমা দেয় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স। এই তালিকা ধরে হিসাব করে এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করে বেবিচক। কিন্তু ১৬ মাস ধরে এই তালিকা জমা দিতে নয়ছয় করছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমান বাংলাদেশ।
প্রতিদিনকার ওই তালিকা চেয়ে গত ২৯ মার্চ বিমানকে চিঠি দিয়েছেন শাহজালাল বিমানবন্দরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম। এতে বলা হয়, ২০২২ সাল থেকে এপ্রিল ২০২৩ পর্যন্ত বিগত ১৬ মাস বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রতিদিনের জিডির সঙ্গে প্রতিদিনের প্যাসেঞ্জার ম্যানুফেস্ট জমা দেয়নি। এতে যাত্রীসংখ্যা নির্ণয় ও রাজস্ব হিসাব সংরক্ষণে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিলের পরিমাণ ও যাত্রীসংখ্যা প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রণালয়ে ও সিএএবি সদর দপ্তরে প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিমানের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করে এবং মৌখিকভাবে অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও কোনো জিডি ও প্যাসেঞ্জার ম্যানুফেস্ট পাওয়া যায়নি। মেনিফেস্টু গত ১৬ মার্চ প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহে বেবিচক ও মন্ত্রণালয়ে যাত্রীতালিকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। বিমান যাত্রীতালিকা না দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে শাহজালাল কর্তৃপক্ষ।
বেবিচক সূত্র জানায়, এমনিতেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে তিন হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। সেই টাকা না দিয়ে মওকুফের আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু বেবিচকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মওকুফ করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা ফি ঠিকমতো পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে বিমানের বিরুদ্ধে। যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা ফি বেবিচককে না দিতেই এই কৌশল নিয়েছে বিমান। কারণ প্রতিদিনের যাত্রীতালিকা প্রেরণ করা হলে সে অনুযায়ী ফি আদায় করা হবে। তালিকা না থাকলে কিসের ভিত্তিকে রাজস্ব আদায় করা যাবে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের সহকারী পরিচালক (হিসাব) লুৎফুর রহমান বলেন, ‘বিমান প্রতিদিনের যাত্রীতালিকা অনেক দিন ধরে দিচ্ছে না। কতদিন দিচ্ছে না তা দেখে বলতে হবে। তবে বিমান যাত্রীসংখ্যার একটা মাসিক হিসাব দেয়। সে অনুযায়ী ফি দেয়।’ তবে কত টাকা ফি দেয় তার পরিমাণও বলতে পারেননি তিনি।
-B










