পর্যটকে মুখর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার : সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিপুলসংখ্যক পর্যটকে ভরপুর কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত। পর্যটকদের সমাগমে মুখরিত সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
শুক্র ও শনিবার (১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর) সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সাগরতীরজুড়ে লোকে লোকারণ্য।
বালিয়াড়ি থেকে শুরু করে সাগরের নোনাজল সবখানে মানুষ আর মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সের মানুষের ভিড় সাগরতীরে।
এক পর্যটক বলেন, এটা ঘুরে বেড়ানোর উপযুক্ত সময়। তাই পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ছুটে এলাম। বেশ আনন্দ করছি।
পর্যটকদের আগমনী খুশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বর্তমান চলছে পর্যটন মৌসুম। একটু একটু শীতের আমেজও পড়ছে। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজারে পর্যটকের সমাগম ঘটে।
শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজারে আসেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। তারা সৈকতের নীল জলরাশি আর বালুচরে সময় অতিবাহিত করেন।
পর্যটক নাবিলা আক্তার বলেন, প্রকৃতির এমন অসাধারণ মেলবন্ধনে হারাতে মানুষ আসে কক্সবাজার। কর্মক্ষেত্রে ছুটি পেলেই ভ্রমণ পিপাসুরা আপনজনদের নিয়ে চলে আসেন সমুদ্র দর্শনে। বছরেরও শেষ। বছরের শেষ সময়ের ছুটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও। আর তাই লেখাপড়ার চাপ না থাকায় ছেলে-মেয়েদের সাথে করে পরিবার নিয়ে ছুটে এসেছেন কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে।
রাজশাহী থেকে সমুদ্র দেখতে আসা শিপলু জামান জানান, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র দেখার স্বপ্ন আমার অনেক পুরনো। আজ বাস্তবে এই সমুদ্রের বিশালতা দেখে আমি মুগ্ধ। গত দু’দিন সমুদ্র ঘুরে দেখেছি। যাত্রাপথের ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে সমুদ্র দেখে।
কক্সবাজারে প্রথম মধুচন্দ্রিমায় এসেছেন এক নবদম্পতি। তাঁরা জানান বিয়ের পূর্বে সমুদ্র দেখা হয়নি। ইচ্ছে ছিলো বিয়ের পর একসাথে প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে সমুদ্রের ঢেউ দেখবো। তাই প্রথম মধুচন্দ্রিমা যাপনের জন্য বেছে নিলাম সমুদ্র নগরীকে।
শীত গ্রীষ্ম বর্ষা সব ঋতুতেই পর্যটন নগরী কক্সবাজার তার রূপ সৌন্দর্যের ডানা মেলে ধরে। সেই সৌন্দর্যে বিভোর হতেই এখন সারাবছর পর্যটকরা আসে সমুদ্র সৈকতে। এর ফলে দীর্ঘদিন নানা ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখে থাকা পর্যটন ব্যবসায়ও কিছুটা আলোর মুখ দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটন ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন পর পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার। ডিসেম্বর মাসের প্রতিদিনই লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটছে সমুদ্র নগরীতে। অতীতের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার প্রত্যাশা করছি৷
সেন্টমার্টিন ভ্রমণের আগামী এক সপ্তাহের টিকিট বুকিংয়ের পাশাপাশি হোটেল মোটেল গুলোতেও ৮০-৯০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে বলেও জানান এই ব্যবসায়ী।
সমুদ্রে মানুষের আনাগোনা যতো বাড়ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে লাইফগার্ড কর্মীদের কর্মতৎপরতা। সমুদ্রের এক পয়েন্ট থেকে অন্য পয়েন্টে ছুটে যাচ্ছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। লাইফগার্ডকর্মী মোহাম্মদ ভুট্টো বলেন, পর্যটকে টইটম্বুর সৈকতে যেনো অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তাই সার্বক্ষণিক সচেষ্ট রাখা হয়েছে লাইফগার্ডকর্মীদের। সমুদ্রস্নানে নামা পর্যটকদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে যেনো ঝুকিপূর্ণ স্থানে গোসলে না যায় পর্যটকরা।
এছাড়াও পর্যটকরা যেনো নির্বিঘ্নে সময় পার করতে পারে, তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন। টুরিস্ট পুলিশের মুখপাত্র বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ নজরদারী বাড়ানো হয় টুরিস্ট পুলিশের। নিয়মিত টহল ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ফোর্স দেওয়া হচ্ছে। রাতেও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সৈকত সহ পর্যটন স্পট গুলো নিরাপত্তার আওতায় থাকে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, পর্যটকদের সব বিষয়গুলো আমরা খুবই গুরুত্বসহকারে নিয়ে থাকি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি টিম সার্বক্ষণিক সেখানে কাজ করে। পর্যটকরা কোন প্রকার ঝামেলার শিকার যেন না হয় সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টের সম্মুখে অভিযোগ কেন্দ্র রয়েছে। পর্যটকরা হয়রানীর শিকার হলে সেখানে অভিযোগ দিতে পারেন।
-B










