ভাঙনে শ্রীহীন হয়ে পড়ছে কক্সবাজার সৈকত
পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকতে ভাঙনের স্থানে দাঁড়িয়ে পর্যটকগণ অবলোকন করছে এর সৌন্দর্য। যদিও সাগরের রুদ্রমূর্তিতে কয়েকদিনের ভাঙনে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে সৈকতটি।
লঘুচাপ এবং পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ইতিমধ্যে বঙ্গোপসাগরে বিলীন হয়ে গেছে নারিকেল কুঞ্জ ও ঝাউ বাগানসহ আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো। এভাবে প্রতিদিনই উত্তাল সাগর গিলে খাচ্ছে সৈকতের অপরূপ সৌন্দর্য। ফলে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে সমুদ্রসৈকতের বেলাভূমি।
টুরিস্ট পুলিশ বক্সের মতো করে লাবণী পয়েন্ট থেকে উত্তরে সমিতিপাড়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সৈকতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ভাঙন। পূর্ণিমার জোয়ারের পানির উচ্চতা আরও বাড়লে ভাঙনও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, ভাঙন কবলিত স্থানে জিওটিউবে বালু ভরে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।
কর্মকর্তারা বলছেন, ভাঙন দীর্ঘ হলেও পর্যটকদের ভ্রমণে আনন্দের যেন কমতি নেই। অনেকে ভাঙন কবলিত সেই স্থানে দাঁড়িয়েই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। এর মধ্যেই চলছে পর্যটকদের সমুদ্রস্নান, বালিয়াড়িতে দৌড়ঝাঁপসহ সৈকত ভ্রমণের নানা আনন্দ।
শনিবার (১২ আগস্ট) সৈকতের লাবণী পয়েন্টে দেখা যায়, সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। আর ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙছে সৈকতের তীর। মূলত এটিই পর্যটকদের ভ্রমণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ইতোমধ্যে এ পয়েন্টে ভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে গেছে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি তথ্যকেন্দ্র।
লাবণী পয়েন্টের বিচ মার্কেটের ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, সৈকতের বিচ মার্কেটের ২ শতাধিকের বেশি আচার, শুঁটকি ও বার্মিজ পণ্যের দোকান রয়েছে। এখন সবগুলো দোকান ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ঢেউয়ের আঘাত আসবে এই ভয়ে রয়েছি। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে সাগরের আগ্রাসন বাড়ছে। তবে এ বছর এর মাত্রা আরও বেড়েছে।
ঝুঁকির মুখে পড়েছে জেলা প্রশাসনের নির্মিত সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চটি। বালুভর্তি জিওটিউব বসিয়ে ভাঙনরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে ভাঙনের কারণে সৈকতের এমন বেহাল দশা হলেও পর্যটকদের আনন্দে নেই ভাটার টান। এমনই সৈকতে সমুদ্র স্নানে ব্যস্ত হাজারো পর্যটক। কেউ কেউ জিওটিউব আবার কেউবা সেই স্থানের ওপর দাঁড়িয়েই উপভোগ করছেন সৈকতের সৌন্দর্য।
সৈকতে ভ্রমণে আসা পর্যটক দম্পতি ওয়াহিদুর রহমান ও নাহিদ আকতার জানান, সৈকতে নামার প্রধান পথ লাবণী পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙন হওয়ায় চরম ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে যা পর্যটকের জন্য আতঙ্কেরও বটে।
‘ভাঙনের শিকার হয়ে সমুদ্রসৈকতের এমন হাল হবে কোনোদিন ভাবিনি, বললেন দেশের উত্তরপ্রান্তের রাজধানী রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক আসলামুল হক দম্পতি।
পর্যটকরা যেন দুর্ঘটনার শিকার না হয় সেদিকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান, সৈকতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম।
বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু বলেন, ভাঙনে তীব্রতা প্রতি বছরই বাড়ছে। কিন্তু সেভাবে সৈকতের পাড় বা ঝাউবিথী রক্ষা করা যাচ্ছে না। তাই দ্রুত ভিত্তিতে সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করে টেকসই বাঁধ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ডক্টর তানজির সাইফ আহমেদ জানান, ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে একাজ করা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে বাঁধ নিমার্ণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
-B










