ভিসার জন্য পাসপোর্ট দীর্ঘদিন জমা না রাখতে আলোচনা চলছে : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ঢাকা: বাংলাদেশী ভিসা আবেদনকারীদের পাসপোর্টগুলো যাতে খুব বেশি সময় ধরে জমা রাখা না হয়, এ জন্য ঢাকায় বিভিন্ন দূতাবাস ও হাইকমিশনের সাথে আলোচনা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৩ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ও বিকল্প মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সম্প্রতি ইতালিসহ বেশ কয়েকটি দেশে ভিসার জন্য আবেদন করা হলে বাংলাদেশীদের পাসপোর্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য জমা রেখে দেয়। ভিসা দেয়া বা না দেয়াবিষয়ক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না। এই প্রবণতার কারণ কী?
আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০৩০ : ৮ লাখ ৪৫ হাজার নতুন হোটেল কক্ষের পরিকল্পনা
জবাবে বিকল্প মুখপাত্র বলেন, প্রতিটা দেশের ভিসা ইস্যুর নিয়মকানুন ভিন্ন। তারা নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী কনসুলার সার্ভিস দিয়ে থাকে। আমরা বিশ্বাস করি, এসব নিয়মকানুন জেনেই কোনো ভিসাপ্রার্থী মিশনে পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন। এর মাঝে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্য কোনো প্রয়োজনে পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশী ভিসা আবেদনকারীদের পাসপোর্টগুলো যাতে খুব বেশি সময় ধরে জমা রাখা না হয়, এ জন্য ঢাকায় বিভিন্ন দূতাবাস ও হাইকমিশনের সাথে আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে আগামী ৫ ডিসেম্বর আরো ২৬৩ জন বাংলাদেশীকে ফেরত আনা হবে। গত ২৮ নভেম্বর ত্রিপোলির আইনজেরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ১৪৩ জন এবং ৩০ নভেম্বর ১১০ জন অনিয়মিত বাংলাদেশী নাগরিককে ফেরত আনা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে ডিটেনশন সেন্টারে থাকা সব বাংলাদেশীকে ফেরত আনা হবে। ত্রিপলীতে বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে বাংলাদেশীদের পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
আরাকান আর্মি রাখাইনের একটি বড় অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। এতে করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জটিলতর হলো কি না অথবা আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলো কি না- জানতে চাইলে বিকল্প মুখপাত্র সরাসরি উত্তর দেয়া থেকে বিরত থেকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের একটি প্রচেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত রাখাইনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা যাবে বলে আশা করা যায়। প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গারা রাখাইনে কি সুযোগ-সুবিধা পাবে তার একটা ধারণা দেয়া হয়েছে।
রফিকুল আলম জানান, আগামী ৬ ডিসেম্বর ঘানাতে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন। তিনি শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা, নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় কৌশলগত যোগাযোগ, শান্তিরক্ষীদের মানসিক সুস্বাস্থ্য, শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নারী অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন।
এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সাইড ইভেন্টে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইতে জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন কপ-২৮ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ১ ও ২ ডিসেম্বর গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অংশগ্রহণ করেছেন। এতে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা যোগ দিয়েছেন।
রফিকুল আলম জানান, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) কাউন্সিল নির্বাচনে বাংলাদেশ ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচনটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। ২০২৪-২৫ মেয়াদের জন্য এই বিজয় বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সফলতার বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় সংস্থাটিতে আমাদের অবস্থান তুলে ধরার একটি পথ উন্মুক্ত হলো। সমুদ্র উপকূলীয় দেশ হিসেবে আইএমও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আইএমও ছাড়াও গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ইথিওপিয়ার মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের জন্য চলতি মাসে শেষ সপ্তাহে একটি চুক্তি সইয়ের চেষ্টা চলছে বলে জানান বিকল্প মুখপাত্র।
-B










