কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ১২৭ টাকা উঠেছে

ঢাকা : দেশের ব্যাংক খাতে অস্থিরতার জেরে কার্ব মার্কেটেও (খুচরা বাজার) ডলারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। রাজধানীর মানি এক্সচেঞ্জগুলোয় গতকাল (৯ নভেম্বর)প্রতি ডলার ১২৭ টাকায়ও লেনদেন হয়েছে। যদিও একদিন আগে গত বুধবার (৮ নভেম্বর)কার্ব মার্কেটে ডলারের দর ছিল ১২১-১২২ টাকা। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ডলারের দাম ৫-৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দর অনুযায়ী, দেশের মানি এক্সচেঞ্জগুলো সর্বোচ্চ ১১৩ টাকা ৫০ পয়সায় ডলার কিনতে পারবে। আর বিক্রি করা যাবে সর্বোচ্চ ১১৫ টাকায়। যদিও এ দরে দেশের কোনো মানি এক্সচেঞ্জেই ডলার বেচাকেনা হচ্ছে না। মতিঝিল, কারওয়ান বাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জসংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল আকস্মিকভাবে ডলার সংকট বেড়ে যায়। চাহিদা অনুযায়ী নগদ ডলার না মেলায় দামও এক ধাক্কায় ৫-৬ টাকা বাড়ে। দুপুরের দিকে প্রতি ডলারের মূল্য ১২৭ টাকা পর্যন্ত ওঠে। তবে বিকাল নাগাদ ১২৬ টাকায় ডলার বেচাকেনা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর)দেশের ব্যাংক খাতে রেমিট্যান্সের ডলারের দর ১২৪ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। বিদেশী মানি এক্সচেঞ্জগুলো থেকে এ দরে রেমিট্যান্স কেনে দেশের ব্যাংকগুলো। যদিও ওইদিন কার্ব মার্কেটে ডলারের দর ছিল ১২০-১২১ টাকা। ব্যাংক বেশি দরে রেমিট্যান্সের ডলার কিনছে, গণমাধ্যমে এমন তথ্য প্রকাশ হওয়ায় কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম এতটা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মানি এক্সচেঞ্জের কর্মীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানি এক্সচেঞ্জগুলোর সংগঠন ‘মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সভাপতি একেএম ইসমাইল হক বলেন, ‘কার্ব মার্কেটে ডলার নেই বললেই চলে। চেষ্টা করেও আমরা নগদ ডলার সংগ্রহ করতে পারছি না। বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ দর বেঁধে দেয়ায় দেশের মানি এক্সচেঞ্জগুলো পথে বসে গেছে। বেঁধে দেয়া দর অনুযায়ী, আমরা ১১৫ টাকার বেশি দামে ডলার বিক্রি করতে পারব না। অথচ ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের ডলার ১২৪ টাকায় কিনছে। তাহলে মানুষ আমাদের কাছে ডলার কেন বিক্রি করবে?’
তিনি জানান, তারা মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা করে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেগুলো লিখিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দাবি হলো আইন অনুযায়ী মানি এক্সচেঞ্জের দর উন্মুক্ত করে দেয়া। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো কিছু জানানো হয়নি। বাজারে ডলার না থাকায় এখন যে যে দরে পারছে কিনছে। আবার বিক্রিও করছে নিজেদের ইচ্ছামতো।
দেশে ডলারের খুচরা বাজার বা কার্ব মার্কেট মূলত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। দেশে বর্তমানে ২৩৫টি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে। যদিও এক হাজারেরও বেশি মানি এক্সচেঞ্জ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানে জানা গেছে। এসব সংস্থার পর্যবেক্ষণ হলো দেশের মানি এক্সচেঞ্জগুলোর বড় একটি অংশ অবৈধ হুন্ডি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। কিছু মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক এতটাই বিস্তৃত যে তারা বিশ্বের যেকোনো দেশে যেকোনো পরিমাণ ডলার মুহূর্তে সরবরাহ করতে সক্ষম।
গত ছয় মাসে সিআইডির পক্ষ থেকে অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। ওইসব অভিযানে ডজন খানেক মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটকও করা হয়েছিল। কিন্তু দেশে হুন্ডি তৎপরতা কমানো যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
একাধিক মানি এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা জানান, দেশে বৈধ মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত মানুষের বিদেশ ভ্রমণে প্রয়োজনীয় ডলারের জোগান দেয়। আবার বিদেশ থেকে ফিরে অনেকে মানি এক্সচেঞ্জগুলোয় ডলার বিক্রি করে। কিন্তু দেশে বড় মাপের হুন্ডি তৎপরতার সঙ্গে অনেক রাঘববোয়াল জড়িত। তারা দেশে-বিদেশে বসে হুন্ডির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ রেমিট্যান্সের প্রধান উৎসের দেশগুলোয় প্রভাবশালীদের বিস্তৃত হুন্ডির নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাদের নিয়োগকৃত এজেন্ট প্রবাসীদের কাছ থেকে বিদেশী মুদ্রা সংগ্রহ করছেন। আর দেশে তাদের প্রতিনিধিরা ব্যাংকসহ অন্যান্য উৎস থেকে সংগৃহীত নগদ টাকা প্রবাসী পরিবারের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন।
-B










