ঈদে সরব দেশের পর্যটনকেন্দ্র

জাহিদ হোসেন বিপ্লব
করোনা নিয়ন্ত্রণে নানা বিধিনিষেধের কারণে দুই বছর পর ‘স্বাভাবিক’ পরিস্থিতিতে ঈদ উদযাপন করছে দেশবাসী।
স্বভাবতই এবার ঈদ ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাসও বেশি। বিশেষ করে দুই বছরের বেশি সময় বিরতির পর বিপুলসংখ্যক পর্যটক বরণ করছে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। দীর্ঘ দুই বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে এবার ঈদে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নও দেখছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ভ্রমণপিপাসুদের অনেকেই ইতিমধ্যে ওইসব এলাকার হোটেল-মোটেলে আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় প্রশাসনও পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ করতে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়ে রেখেছেন।
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটক ভ্রমণের আশা করছেন খাতটির ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে অধিকাংশ কক্ষের আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের বরণ করতে নগরীর পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউজ সব ধরনের প্রস্তুতি সেরে রেখেছে।
হোটেল সায়মন বিচ রিসোর্টের ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পবিত্র রমজানের এক মাস কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারেননি পর্যটকরা। এখন ঈদের পরে রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক আসবেন। এজন্য আমাদের হোটেলে বেশিরভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে।’
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, ‘এখন গরমের সময়। এছাড়াও পর্যটনের শেষ মৌসুম। এরপরও ঈদের পরের দুই সপ্তাহ লাখো পর্যটক সমাগম হবে বলে আশা করছি।’
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, ‘রমজানে পর্যটকের উপস্থিতি কম হলেও ঈদের ছুটিতে সমাগম ঘটবে। তাই পর্যটকের সেবা নিশ্চিত করতে এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেছে প্রশাসন। পর্যটকের কাছ থেকে হোটেল-মোটেলগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাঙ্গামাটিতেও হোটেল-মোটেলের ৭০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। বিশেষ করে সাজেক ভ্যালির সৌন্দর্য অবলোকন করতে ইতিমধ্যে বেশিরভাগ হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের বরণের প্রস্তুতিও সেরেছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট বোট ও রেস্টুরেন্টগুলোর রঙিন করে তোলা হয়েছে।
রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহার। কেউবা দূরের শুভলংয়ের জলপ্রপাতে স্বস্তি খোঁজেন, কেউবা হ্রদের নীল জলে ডুব দিয়ে বা হ্রদের পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়ানোর পাহাড়ের সৌন্দর্যে খোঁজেন তৃপ্তি। আর এ কাজে নিয়োজিত জেলার প্রায় ৫০০ ইঞ্জিনচালিত বোট। সবচেয়ে বেশি বোট মেলে বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতুর পাড়ের ঘাটেই। এ ঘাটের ব্যবস্থাপক রমজান আলী জানান, এর মধ্যেই বেশিরভাগ বোটই নিজেদের প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সেরে নিয়েছে। কেউ রঙ করেছে, কেউ সিট বা সিটের গদি বদলেছে। অনেকেই লাইফ জ্যাকেট কিনেছে নতুন করে কিংবা ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে নিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রস্তুতি আছেই কমবেশি সবার।
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়–য়া বলেন, ‘আমাদের মোটেল-কটেজে ৮৮টি রুম আছে। এর মধ্যে ৭০ ভাগেরও বেশি বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি বাকিগুলোও এ সপ্তাহের মধ্যে বুকিং হয়ে যাবে। বছরের এই সময়টার জন্য আমরা এমনিতেই প্রস্তুত থাকি। এ বছরও ব্যতিক্রম হবে না।’
রাঙ্গামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, ‘করোনাকালের কঠিন সময়ে হোটেলগুলো দুঃসহ সময় পার করেছে, অনেকেই হোটেল বন্ধও রেখেছে। আশা করছি এ মৌসুমে সবাই ঘুরে দাঁড়াবে। সবাই সেই প্রস্তুতিই নিয়ে










