ফিফা বিশ্বকাপ'২০২৬- লোগো উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা
কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপের উত্তাপ যেন এখনো টের পান ফুটবল অনুরাগীরা। আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ মুকুট জয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে মরুর দেশে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ আসরের। অপেক্ষা এখন পরবর্তী বিশ্বকাপ আসরের, যা যৌথভাবে আয়োজন করবে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। এ মহাযজ্ঞ শুরু হতে আরো তিন বছর বাকি। যদিও এরই মধ্যে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের লোগো দেখে ফেললেন ফুটবলভক্তরা। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় (১৮ মে) (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর) জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পরবর্তী ফিফা বিশ্বকাপের লোগো উন্মোচন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোসহ ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তা, ব্রাজিল গ্রেট রোনালদোসহ সাবেক তারকা ফুটবলার, হলিউডের তারকারাজি, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিক, ব্যবসায়ীসহ খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। যদিও যাকে ঘিরে এত আয়োজন সেই লোগোটিকে বড় সাদামাটাই মনে হচ্ছে সমর্থকদের কাছে। এ নিয়ে ফিফার যুক্তি হলো, তারা ইচ্ছে করেই এটি সাদামাটা রেখেছেন যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
সচরাচর যেকোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের লোগোয় স্বাগতিক দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচারকে স্থান দেয়া হয়। কিন্তু এবার সেই পথে হাঁটেনি ফিফা। ইংরেজি ‘২৬’ সংখ্যার ওপর বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা শোভা পাচ্ছে। ট্রফির নিচে লেখা ফিফা।
ফিফার প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা রোমি গাই বিশ্বকাপ ২০২৬-এর লোগোর সাধারণ ডিজাইন পছন্দের পেছনে তাদের ভাবনার কথাটি জানালেন এভাবে, ‘একজন সাধারণ ফুটবলভক্ত, একজন গ্লোবাল সুপারস্টারের কাছে বা একটি বিখ্যাত স্থানেও এ লোগো বিশ্বকাপের স্বতন্ত্র দিকগুলো পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসবে। এটি ৪৮টি দলকে নিয়ে প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের বিশালতা ও বৈচিত্র্যময় দিকটি তুলে ধরবে।’
মেক্সিকোয় এ নিয়ে তৃতীয়বার, যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয়বার ও কানাডায় প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ আসর বসতে যাচ্ছে। তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হলো, উত্তর আমেরিকায় যতবার বিশ্বকাপ আসর বসেছে তার সবক’টিতে লাতিন কোনো দেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। মেক্সিকো ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল ও ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয় করে। যুক্তরাষ্ট্রে একবারই বসেছে বিশ্বকাপ আসর। ১৯৯৪ সালের ওই আসরের ফাইনালে টাইব্রেকারে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয় করে রোমারিও, ডুঙ্গাদের ব্রাজিল।
আরেকবার উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপ। তবে কি পরবর্তী বিশ্বকাপও জিতে নেবে লাতিন কোনো দেশ? উত্তর আমেরিকা বলেই ব্রাজিলের হেক্সা কিংবা আর্জেন্টিনার চতুর্থ মুকুট জয়ের স্বপ্ন জেগে উঠবে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। ৩২ দলের জায়গায় ৪৮ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে ম্যাচও বাড়বে। কাতার বিশ্বকাপে যেখানে ৬৪টি ম্যাচ হয়েছে, সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ সংখ্যা ১০৪। ম্যাচ ৪০টি বেড়ে যাওয়ায় ভেনুর সংখ্যাও বাড়াতে হয়েছে ফিফাকে। এবার তিন দেশের মোট ১৬টি ভেনুতে খেলা হবে। এর মধ্যে মেক্সিকোর তিনটি ও কানাডার দুটি ছাড়া বাকি ১১টি ভেনু যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে।
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি, মন্টেরে ও গুয়াদালহারা; কানাডার টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল, সানফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, কানসাস সিটি, ডালাস, আটলান্টা, হিউস্টন, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া, মিয়ামি ও নিউইয়র্ক শহরের ভেনুতে বসবে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা।
উত্তর আমেরিকার এ আসর অনুষ্ঠিত হবে চিরাচরিতভাবে জুন ও জুলাইয়ে। শুরুর দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ‘ইউনাইটেড ২০২৬’ নামের এ বিশ্বকাপের ফাইনাল ১৯ জুলাই, রোববার।
২০২৬ বিশ্বকাপের ১৬টি ভেনু ও ধারণক্ষমতা:
অ্যাজটেকা (মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো): ৮৭ হাজার ৫২৩
বিবিভিএ (মন্টেরে, মেক্সিকো): ৫৩ হাজার ৫০০
অ্যাকরন (গুয়াদালহারা, মেক্সিকো): ৫০ হাজার
লুমেন ফিল্ড (সিয়াটল, যুক্তরাষ্ট্র): ৬৮ হাজার ৯০০
লেভি’স (সানফ্রান্সিসকো, যুক্তরাষ্ট্র): ৬৮ হাজার ৫০০
সোফি (লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র): ৭০ হাজার
অ্যারোহেড (কানসাস সিটি, যুক্তরাষ্ট্র): ৭৬ হাজার ৪১৬
এটিঅ্যান্ডটি (ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র): ৮০ হাজার
মার্সিডিজ বেঞ্জ (আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র): ৭১ হাজার
এনআরজি (হিউস্টন, যুক্তরাষ্ট্র): ৭১ হাজার ৭৯৫
জিলেট (বোস্টন, যুক্তরাষ্ট্র): ৬৫ হাজার ৮৭৮
লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ড (ফিলাডেলফিয়া, যুক্তরাষ্ট্র): ৬৯ হাজার ১৭৬
হার্ড রক (মিয়ামি, যুক্তরাষ্ট্র): ৬৪ হাজার ৭৬৭
মেটলাইফ (নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র): ৮২ হাজার ৫০০
বিএমও ফিল্ড (টরন্টো, কানাডা): ৩০ হাজার
বিসি প্লেস (ভ্যাঙ্কুভার, কানাডা): ৫৪ হাজার ৫০০
-B










