এসভিবি কিনছে ফার্স্ট সিটিজেন ব্যাংক

বন্ধ হয়ে যাওয়া সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (এসভিবি) কিনতে যাচ্ছে ফার্স্ট সিটিজেন ব্যাংক। চুক্তির আওতায় নর্থ ক্যারোলাইনাভিত্তিক ব্যাংকটি এসভিবির ১১ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ, ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের আমানত ও ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলারের ঋণও গ্রহণ করছে ফার্স্ট সিটিজেন।
চলতি মাসের শুরুতে এসভিবির নিয়ন্ত্রণ নেয় ফেডারেল ডিপোজিট করপোরেশন (এফডিআইসি)। ফলে চুক্তির মাধ্যমে এফডিআইসিকে বিনিময় মূল্য হিসেবে ৫০ কোটি ডলার দেবে ফার্স্ট সিটিজেন। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসভিবির গ্রাহকরা তাদের অ্যাকাউন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন এবং খুলে দেয়া হবে শাখাগুলো।
২০০৮ সালে অর্থনৈতিক সংকটের পর এসভিবি হলো পতনের মুখে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ব্যাংক। ১০ মার্চ ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। গ্রাহকরা পড়েন আস্থার সংকটে, ফলে ছোট ছোট অনেক ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেয়ার ঘটনাও ঘটে।
২০০৯ সাল থেকে অন্য যেকোনো ব্যাংকের তুলনায় ফার্স্ট সিটিজেন এফডিআইসির সহায়ক লেনদেন সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। ফার্স্ট সিটিজেন বলছে, নতুন সমন্বিত কোম্পানি বৈচিত্র্যময় ঋণ পোর্টফোলিও তৈরিতে এবং স্থিতিস্থাপন আমানতের ভিত্তি হবে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় দূরদর্শী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে।
বিশ্লেষকরাও বলছেন, এসভিবি ও ফার্স্ট সিটিজেনের এ একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য জরুরি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসভিবি কিনতে ফার্স্ট সিটিজেনের সঙ্গে এ চুক্তির ফলে বাজার কিছুটা শান্ত হয়েছে। কারণ এসভিবির পতনের খবরের পর এবারই প্রথম সপ্তাহান্ত, যখন নতুন কোনো ব্যাংকের পতন বা জরুরি অবস্থা সৃষ্টির খবর আসেনি। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের জন্য নির্ধারিত তহবিলে বাড়তি কিছু সহায়তারও আশ্বাস পাওয়া গেছে। জানা গেছে, এ ধরনের সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোর জন্য জরুরি ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণের আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
সিডডির আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সিকামোর বলেন, ‘সিলিকন ভ্যালি ব্যাংককে অন্য একজন ক্রেতার হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। এটি ভালো ব্যবস্থা। কিন্তু সেই সঙ্গে অন্য ব্যাংকগুলোর আমানতেও গ্যারান্টি দেয়া প্রয়োজন। তা না হলে এটি হবে পরবর্তী ঝড়ের আগের সামান্য শান্ত সময়।
গত সপ্তাহ শেষে দেখা গেছে জার্মানির সবচেয়ে বড় ঋণদাতা ডয়েচে ব্যাংকের শেয়ারদরে পতন হয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। সেই সঙ্গে বেড়েছে বন্ডের বীমা ব্যয়। সোমবার এশিয়ার ব্যাংকের শেয়ারগুলোর প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। অস্ট্রেলিয়া ও টোকিওতে স্থিতিশীল থাকলে পতন দেখা গিয়েছে হংকংয়ে। সেখানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের শেয়ারদরে পতন ঘটেছে প্রায় ৪ শতাংশ।
-B










