শত কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ফ্লাইট এক্সপার্ট

ঢাকাঃ অনলাইনে উড়োজাহাজের টিকিট কাটার বড় প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ সাড়ে তিনশ কোটি টাকা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বহু এজেন্সি শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
শনিবার (২ আগস্ট) তাদের ওয়েব সাইট ‘ফ্লাইট এক্সপার্টে’ প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। তাদের অফিস বন্ধ রয়েছে। ফ্লাইট এক্সপার্টের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তাদের সবশেষ পোস্ট ছিল হজ নিয়ে। সেই পোস্টে ২০২৬ সালের হজের রেজিস্ট্রেশন শুরু জানিয়ে হজ প্যাকেজের মূল্য ছাড়া হয়েছে। সেই পোস্টে অনেকেই মালিকের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কমেন্টস করেছেন।
এদিকে ফেসবুকে অনেকেই লিখেছেন, ফ্লাইট এক্সপার্ট মালিক গতরাতেই (শুক্রবার) দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। জয়িতা আফরিন নামে একজন লিখেছেন, ‘ফ্লাইট এক্সপার্টের মতো ট্রাস্টেড কোম্পানি যদি এভাবে পালিয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ আর কাকে বিশ্বাস করবে?’
সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইট এক্সপার্টের মালিক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ও তার বাবা মক্কা গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রশিদ শাহ সম্রাটসহ পরিবারের সদস্যরা গত ২ জুন থেকে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে আত্নগোপনে চলে যান। এরপর বিদেশে পালিয়ে যান। তারা কানাডায় পালিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়টি উল্লেখ করে শনিবার মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী কয়েকজন। যদিও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ফ্লাইট এক্সপার্টের সেলস ডিপার্টমেন্টের একজন মামুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুক্রবার (১ আগস্ট) রাতেই আমাদের মালিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।’
একটি সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইট এক্সপার্টের সিওও সালমান তাদের অফিসের অভ্যন্তরীণ একটি whatsapp গ্রুপে লিখেছেন, সাঈদ, হোসাইন এবং সাকিব তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তারা খুব সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করে গত বৃহস্পতিবারের মিটিং-এ সব দোষ তার (সালমানের) ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল এবং সালমানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। আজ সকালে তারা ৩ কোটি টাকা বা তার কম টাকা তুলে নিয়েছেন এবং তা নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন। এর ফলস্বরূপ, কোম্পানিটি এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
সালমান আরও জানিয়েছেন যে, তার দিকে আসা হুমকি এবং দোষারোপের কারণে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তিনি ছুটি নিয়েছেন। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি দুঃখিত এবং বলেছেন যে এভাবে চলে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না।
ফ্লাইট এক্সপার্ট ২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তখন একটি লঞ্চ ইভেন্টের মাধ্যমে তাদের প্ল্যাটফর্ম চালু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি খুব দ্রুত বাংলাদেশের অনলাইন ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিতে একটি প্রভাবশালী নাম হয়ে ওঠে। তখন তারা দেশের ফ্লাইট টিকেটিং শিল্পে একটি বড় জায়গা দখল করে নেয়।
প্রতিষ্ঠানটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের টিকিট বুকিং, হোটেল রিজার্ভেশন, ট্যুর প্যাকেজ এবং ভিসা প্রক্রিয়াকরণের মতো নানা ধরনের সেবা দিত। বিশেষ করে, সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্লাইট টিকিট বুক করার সহজ সুবিধার কারণে এটি গ্রাহকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার, ডিসকাউন্ট এবং সহজে পেমেন্টের ব্যবস্থা থাকায় এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
-B










