আবারও সংকটে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাত

ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বুকিং উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। কভিড-১৯-এর ক্ষত কাটিয়ে ঘুড়ে দাঁড়ানো বৈশ্বিক এভিয়েশনখাত আবারও সঙ্কটে পড়েছে।
ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির ডাটা কোম্পানি ফরোয়ার্ডকিস জানায়, ৭ অক্টোবরের পর তিন সপ্তাহে বৈশ্বিক ফ্লাইট বুকিং ২০১৯ সালের চেয়ে ২০ শতাংশ কম ছিল।
আরও পড়ুন: পর্যটন নগরীতে আজ রেলযাত্রা শুরু
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগে ফ্লাইট বুকিং ব্যবসা ছিল গতিশীল। গত ৬ মাসে এয়ারলাইনসগুলো প্রচুর আয় করেছে। এ সময়ে ভ্রমণের চাহিদা ভালো ছিল এবং টিকিটের দামও বেশি ছিল। তবে এয়ারলাইনসগুলো আশঙ্কা করছে, আসছে শীতে ফ্লাইট বুকিং আরও কমতে পারে।
এখনও অনেক এয়ারলাইনস ফ্লাইট বুকিং কমার কথা জানায়নি। তবে রায়ানএয়ারের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান জানায়, সবকিছু যুদ্ধের ওপর নির্ভর করছে।
ফরোয়ার্ডকিসের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী অলিভিয়ার পন্টি জানান, চলমান সংঘাত মহামারী-পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যাহত করছে। ফলে মানুষ ওই অঞ্চলে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকছে। এটি অন্য কোথাও ভ্রমণের ব্যাপারেও নিরুৎসাহিত করছে।
সংঘাতের পর অনেক এয়ারলাইনস ইসরায়েলে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ তারা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা করছে। বুকিং ডাটার প্রতিবেদন একটি প্রাথমিক বার্তা, যা অনিশ্চয়তা সম্পর্কে সামান্য তথ্য সরবরাহ করছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এর মধ্যে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান যাত্রীবাহী এয়ারলাইনসগুলো রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বুকিংয়ে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে। সংঘাত শুরুর আগে ২০১৯ সালের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি ফ্লাইট বুকিং ছিল। তা এখন ১৩ শতাংশ নিচে নেমেছে। সৌদি আরব, জর্ডান, লেবানন ও মিসরেরও বুকিং কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বুকিংও কমেছে। সংঘাতের আগে এখানে ২০১৯ সালের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি ফ্লাইট বুকিং হচ্ছিল। এখন তা ৪ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে।
মার্কিন এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তা জানান, যেকোনো সংঘাতের সময় মার্কিন পর্যটকরা কম ভ্রমণ করেন। এর আগে নব্বইয়ের দশকে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়েও পর্যটকের সংখ্যা কমে গিয়েছিল।
অন্যান্য কারণেও বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বুকিং কমতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তার চাহিদা সংকুচিত হওয়া। ব্যবসায়িক ভ্রমণ সাধারণত শরৎকালে বৃদ্ধি পায়। তবে সেক্ষেত্রেও ধীর বুকিং দেখা গেছে।
এয়ারলাইনসগুলো ফ্লাইট বুকিংয়ের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। গ্রীষ্ম মৌসুম শেষে শীতে পর্যটকদের চাহিদা কেমন থাকবে তা অনুমান করা বেশ কঠিন। তবে উইজ এয়ার জানায়, শীতকালীন ফ্লাইট বুকিং এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
হামাস-ইসরায়েল সংঘাত যেকোনো সময় গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিমান ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।
কভিড-১৯ লকডাউনের পর এয়ারলাইনসগুলো ক্রমবর্ধমান চাহিদা থেকে উপকৃত হয়েছে। কিন্তু তারা এখন একাধিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, শ্রমিক ঘাটতি এবং বিমানবন্দরের বিশৃঙ্খলা। ফ্লাইট বুকিং কমে যাওয়া বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। এ কারণে এয়ারলাইনসগুলোও তাদের ফ্লাইট কমাতে পারে।
চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এমনিতে সাধারণ পর্যটকদের আস্থাকে দুর্বল করে রেখেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রমাণ করে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব এখনো কতটা রয়ে গেছে এভিয়েশন খাতের ওপর। এ অবস্থায় অনেকে আগে থেকে ট্রিপ বুক করতে অনিচ্ছুক। এ কারণে পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোও অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। মিসর ও জর্ডানে পর্যটক সংখ্যা এরই মধ্যে কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্ম মৌসুমে অনেক ফ্লাইট বুকিং হলেও বর্তমানে এভিয়েশন খাত হুমকির মুখে রয়েছে। এয়ারলাইনসগুলো আশা করছে, অতিদ্রুত সংঘাত প্রশমিত হবে এবং ফ্লাইট বুকিং আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।
-B










