আকাশপথে বৈশ্বিক যাত্রী পরিবহন ২৮ শতাংশ বাড়বে

আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ শিল্প সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, চাহিদার তীব্র পুনরুদ্ধারের ফলে ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী যাত্রী পরিববহন বৃদ্ধির পাশাপাশি এশিয়া-প্যাসিফিক এয়ারলাইনসগুলো অনেক বেশি লাভবান হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে চলতি বছর যাত্রী পরিবহন ৪৩৫ কোটিতে পৌঁছতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী উড়োজাহাজ ভ্রমণের চাহিদা ২০১৯ সালের প্রাক-মহামারী স্তরের কাছাকাছি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, কভিড-১৯-বিষয়ক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উঠিয়ে নেয়াতে প্রত্যাশিত সংখ্যা ২০২২ সালের ৩৩৯ কোটি যাত্রীর তুলনায় বেশি হতে পারে। ৪ বছর আগে সংখ্যাটি ছিল ৪৫৪ কোটি।
উড়োজাহাজ ভ্রমণের চাহিদা পরিমাপ করা হয় আরপিকে (রেভিনিউ প্যাসেঞ্জার কিলোমিটার) দিয়ে। আরপিকে অনুসারে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণের চাহিদা বাড়বে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত এয়ারলাইনসের চাহিদা সর্বোচ্চ ৬৩ শতাংশ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কারণ এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশই মহামারীজনিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘চীন বছরের শুরুতে কভিড-১৯-বিষয়ক বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার মাধ্যমে শিল্পটিকে দ্রুত লাভজনক করার পথে নিয়ে এসেছে।’
আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এয়ারলাইনসগুলোর যাত্রী পরিবহনের পরিমাণ যথাক্রমে ৩০ দশমিক ১ ও ২০ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া ইউরোপ থেকে আগত ভ্রমণকারীদের সংখ্যা ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ ও উত্তর আমেরিকায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। উড়োজাহাজ ভ্রমণের চাহিদা বৃদ্ধি এ শিল্পকে একটি লাভজনক স্তরে পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি আইএটিএর চলতি বছরের শুরুতে অনুমান করা লাভের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, উড়োজাহাজ শিল্পের সম্মিলিত নেট মুনাফা ২০২৩ সালে ৯৮০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে, যা ডিসেম্বরের ৪৭০ কোটি ডলারের পূর্বাভাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। প্রসঙ্গত ২০২২ সালে শিল্পটি মোট ৩৬০ কোটি ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
আইএটিএ ধারণা করছে, উত্তর আমেরিকার ক্যারিয়ারগুলো ১১৫ কোটি নিট মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে শিল্পটির নেতৃত্ব দেবে, যা ২০২২ সালের ২৬ দশমিক ৪ শতাংশের তুলনায় বেশি। ইউরোপীয় ক্যারিয়ারগুলোর নিট মুনাফা ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫১০ কোটি ডলারে পৌঁছবে।
অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পূর্বাভাস প্রদান করা হয়েছে, মোট রাজস্ব ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৮০ হাজার ৩০০ কোটি ডলার কিংবা ২০১৯ সালের প্রাক-মহামারী স্তরের প্রায় কাছাকাছি ৯৬ শতাংশে পৌঁছবে। যদিও অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক কিছু ঝুঁকি বিদ্যমান। যেমন মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রধান প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আক্রমণাত্মক সুদহার বৃদ্ধি মন্দার ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিও ‘সম্ভবত বৈশ্বিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য নেতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করবে’ বলে উল্লেখ করেছে আইএটিএ।
-B










