চ্যাটজিপিটির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় গুগলের বার্ড

চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার পরই সার্চ ইঞ্জিন ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় গুগল। অনেকের মতে এ জাতীয় চ্যাটবট-ই ভবিষ্যতে সার্চ ইঞ্জিনের স্থান দখল করবে। এমন পরিস্থিতিতেই গুগল আগেভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বটের জগতে প্রবেশ করল।
গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই নিজেই বার্ডের কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এক ব্লগ পোস্টে তিনি বলেন, ‘আপাতত কয়েকজন বিশ্বস্ত পরীক্ষকের জন্য এ পরিষেবা চালু করা হবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।’
পিচাই বলেন, ‘আমাদের বৃহৎ ভাষা মডেলগুলোর শক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে বিশ্বের জ্ঞানের পরিধিকে একত্র করতে চায় বার্ড। শক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার একটি মিশেল হয়ে উঠতে চলেছে বার্ড। ব্যবহারকারীদের দেয়া উত্তরের ভিত্তিতে একটি নলেজ বেজ তৈরি করবে এটি। তার সঙ্গে ওয়েবে যেসব তথ্য পাওয়া যায়, সেসব কিছুকে একত্র করে ইউজারকে একটি ইউনিক পরিষেবা দেয়ার চেষ্টা করবে চ্যাটবট সার্ভিসটি।
গুগলের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে বার্ড থেকে অর্থ আয়ে আগ্রহী নন তারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কীভাবে এখান থেকে অর্থ আয় করবে সে বিষয়েও কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে, গত সপ্তাহেই নতুন উদ্যোগের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সুন্দর পিচাই। সংস্থার আয়ের রিপোর্টের কনফারেন্স কলে নতুন এ পরিষেবা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
ওপেন এআইয়ের হাত ধরে চ্যাটজিপিটির যাত্রা। তবে সংস্থাটিতে মাইক্রোসফটের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। সম্প্রতি ওপেন এআইতে ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টটি। ফলে অনেকেই বলছিলেন চ্যাটজিপিটি মূলত মাইক্রোসফটেরই। মূলত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মাইক্রোসফটকেই টেক্কা দিতে নতুন চ্যাটবট এনেছে গুগল।
অন্যদিকে চ্যাটজিপিটির জনপ্রিয়তা দেখে এর সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারত্বের পরিধি আরো বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট। ওপেন এআই প্লাটফর্মে আরো প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছে।
একই সঙ্গে নিজেদের পণ্যগুলোয় চ্যাটজিপিটি সংযোজনের ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট। এমনকি গুঞ্জন আছে, শিগগিরই মাইক্রোসফট তাদের সার্চ ইঞ্জিন ‘বিং’-এ এআই প্রযুক্তিটি সংযুক্ত করতে পারে।
অল্প কয়েকদিনেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হিসেবে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে চ্যাটজিপিটি। এখন দেখার বিষয় সামনের দিনগুলোয় বার্ড কতটুকু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে চ্যাটজিপিটিকে। গত সপ্তাহে ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের উপাত্ত প্রকাশ করেছে আলফাবেট। বৈশ্বিক শ্লথগতির কারণে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন থেকে প্রত্যাশিত আয় করতে পারেনি মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টটি। করপোরেট ব্যয় কমানোসহ বড় আকারের কর্মী ছাঁটাই করেছে তারা। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে আলফাবেটের আয় ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে। কোম্পানির নিট আয় ৩৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে অ্যালফাবেট। এতে ১ লাখ ৯০ হাজার কর্মিবহরের প্রায় ৬ শতাংশ বাদ পড়ছে।
-B










