মানবিক এয়ারলাইন্স বিমান বাংলাদেশ
আইসিইউতে থাকা মুমূর্ষু শওকতকে আনতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক তিনটি এয়ারলাইন্স কোনভাবেই যখন রাজি হচ্ছিল না এবং পরিবারও অনেকটা সন্তানের আশা ছেড়েই দিয়েছিল তখন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মানবিক এয়ারলাইন্সের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
আইসিইউ থেকে স্ট্রেচার বেডসহ পরিবারের কাছে তাকে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মানবিক এয়ারলাইন্সে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘ দিন ধরে কানাডার টরন্টোতে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শওকত। সম্প্রতি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। ছিলেন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ)। দেশে তার ফেরার অপেক্ষা করছিল পরিবার।
বুধবার (৩ আগস্ট ) রাতে টরন্টো থেকে বিজি-৩০৬ ফ্লাইটে ঢাকা ফেরেন শওকত। সঙ্গে ছিলেন তার বাবা। গোটা ফ্লাইটে স্ট্রেচার বেডে শুয়ে ছিলেন শওকত।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ শওকত বাংলাদেশের মেধাবী ছাত্র। উচ্চ শিক্ষার জন্য বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ২০১৯ সালে কানাডার টরন্টো শহরের নামকরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু ২০২১ সালে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। বন্ধুরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে নিবিড় পরিচর্যায় দীর্ঘ চিকিৎসা চলে। ছেলেকে দেশে ফেরাতে গত জুলাইয়ে কানাডা যান শওকতের বাবা। তবে ছেলেকে দেশে ফেরাতে মধ্যপ্রাচ্যেভিত্তিক ৩টি এয়ারলাইন্সে অনুরোধ করলেও তারা আইসিইউর রোগীকে বাংলাদেশে আনতে রাজি হয়নি।
পরে ছেলেকে রেখেই দেশে ফিরে আসেন শওকতের বাবা। তবে ২৭ জুন বিমানের টরন্টো ফ্লাইট চালুর পর তিনি আবার কানাডা যান। সেখান থেকে ছেলেকে স্ট্রেচার বেডে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনে শওকতের বাবা বলেন, যেখানেই যাত্রীদের সীমাহীন কষ্টের গল্প সেখানেই যেন পাশে থাকে বাংলাদেশ বিমান এটাই আমার প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান না থাকলে আমি আমার ছেলেকে দেশে আনতে পারতাম না। বিমানের এ ঋণ কোন দিন শোধ করতে পারব না। ধন্যবাদ বাংলাদেশ বিমানকে।
-B










