পদ্মা সেতুর প্রভাব আকাশপথে- যাত্রী সংকটে উড়োজাহাজ সংস্থা

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সড়ক পথে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত সহজ হওয়ায় বরিশাল ও যশোর রুটে আকাশপথে যাত্রী অর্ধেকে নেমে এসেছে। সরকারি ও বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো রুট দুটির একটিতে আগের চেয়ে হাজার টাকা ভাড়া কমিয়েও ফ্লাইট পূর্ণ করতে পারছে না।
ফলে বিপাকে পড়েছে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা।
ইতোমধ্যে দুটি এয়ারলাইন্স যশোর-ঢাকা রুটের ৭টি ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। ভাড়া কমিয়েও যাত্রী সংকট কাটানো যাচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, যাত্রী কম থাকায় বরিশাল রুটে আর ফ্লাইট পরিচালনা করছে না নভোএয়ার। যা গত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। যদিও তারা এ বন্ধকে সাময়িক বলছেন। কিন্তু এই রুটে নভোএয়ার আবার ফ্লাইট চালু করতে চাইলে উঠে দাঁড়াতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান অনেকে।
অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও বিমান বাংলাদেশের বরিশাল ও যশোর রুটে তুলনামূলক যাত্রী কমেছে বলে তারাও স্বীকার করছেন। বিমান বরিশালে তাদের ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। শুধু ভালো অবস্থানে আছে ইউএস-বাংলা। তারা আগের মতোই যাত্রী পাচ্ছে বলে দাবি করেছেন।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে গত জুন মাস পর্যন্ত যশোর-ঢাকা রুটে তিনটি এয়ারলাইন্সের ১৫টি ফ্লাইট চলাচল করতো। এগুলো হলো, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা এবং নভোএয়ার।
যশোর বিমানবন্দর যাত্রীদের পদচারণায় এক সময় মুখর ছিল। সহজলভ্যও ছিল না উড়োজাহাজের টিকিট। জানা যায়, চাহিদার কারণে দ্বিগুণ দাম দিয়ে যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহ করতে হতো।
কিন্তু গত ২৫ জুন দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু চালু হবার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার ৭০ ভাগ মানুষ আকাশ পথে রাজধানীতে যাতায়াত করছে না। তারা সড়ক পথে পদ্মা সেতু দিয়ে কম সময়ে ঢাকা যাচ্ছেন।
অপরদিকে যশোর ও ঝিনাইদহ জেলার ৩০ ভাগ মানুষও সড়ক পথ ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। এ কারণে যশোর থেকে ঢাকা যাতায়াতরত এয়ারলাইন্সগুলো ভয়াবহ যাত্রী সংকটে পড়েছে।
বর্তমানে ওই রুটে ৭টি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে বেসরকারি দুটি এয়ারলাইন্সের। এর মধ্যে ইউএস বাংলার ৭টি ফ্লাইটের মধ্যে চলাচল করছে ৩ টি এবং নভোএয়ারের ৫টির মধ্যে চলাচল করছে ২টি। বাংলাদেশ বিমানের দুটি ফ্লাইট অব্যাহত রয়েছে।
-B










