এক দশকে সুন্দরবনের আয়তন কমেছে প্রায় অর্ধেক

এক দশকে বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলির অন্যতম সুন্দরবনের আয়তন অন্তত অর্ধেক কমে গেছে। এভাবে বন কমতে থাকার বিষয়টি উদ্বেগজনক। শনিবার (২৮ অক্টোবর)সুইডবায়ো, বন অধিদপ্তর, ফরেস্ট পিপল প্রোগ্রাম (এফপিপি) ও উন্নয়ন অন্বেষণের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত কর্মশালার শিরোনাম ছিল ‘দি ইমপ্লিমেনটেশন অ্যান্ড মনিটরিং অব দ্য কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্ক: কমিউনিটি বেসড সলিউশন অ্যান্ড কন্ট্রিবিউশনস টু দ্য গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি টার্গেটস।’
আরও পড়ুন: মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের ভাড়া বাড়ছে নভেম্বরে
কর্মশালাটি তিন সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী সেশনে স্বাগত বক্তব্য দেন উন্নয়ন অন্বেষণের চেয়ারপারসন অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি সুন্দরবনের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের জলাধার কমেছে। ২০১০ সালে যেখানে ছিল ৪৪৮ হেক্টর, ২০২০ সালে তা ৩২২ হেক্টরে এসে দাঁড়িয়েছে। কাঁকড়া বিচরণস্থল ৩ হাজার ১১৫ হেক্টরে থেকে কমে ১ হাজার ৬৩৪ হেক্টরে এসে নেমে এসেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে সুন্দরবনের ১০ শতাংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।’
কি নোট উপস্থাপন করেন এফপিপির সিনিয়র পলিসি উপদেষ্টা ড. মাওরিজিও ফারহান ফেরারি। বন সংরক্ষণের নানা উদ্যোগ তুলে ধরে বক্তব্য দেন প্রধান বনসংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। আলোচনা শেষে সুন্দরবনের ওপর একটি আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
দ্বিতীয় সেশনে বক্তব্য দেন এফপিপির গ্লোবাল পার্টনারশিপ কো-অর্ডিনেটর ক্যারেলিন ডি ঝং এবং বন বিভাগের উপপ্রধান বনসংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির। এ সেশনের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাদের আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সূচনা বক্তব্যে তৃতীয় পর্ব শুরু হয়। এ পর্বে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক। এ পর্বেও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, ‘আমরা জাতীয় জীববৈচিত্র্য অভিযোজন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এ নিয়ে সব মানুষ চিন্তিত। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রকৃতিনির্ভর সমাধান পেতে চান।’ তিনি জানান, এটা কেবল পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় সম্মিলিতভাবে কাজ করলে লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব।
প্রধান বনসংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্যের হটস্পট রয়েছে। আমরা ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছি। এজন্য আমরা স্থানীয় লোকজনকে বন ব্যবস্থাপনায় সহযোগী হিসেবে গড়ে তুলছি। কুনমিং-মনট্রিল প্রোটোকল অর্জনে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।’
উপপ্রধান বনসংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির ‘বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহার’ শিরোনামে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।
বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যে উঠে আসে, সুন্দরবনের আয়তন কমার পাশাপাশি কমছে মৎস্যসম্পদও। সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সমাধান খুঁজতে হবে। সুন্দরবনে পরিকল্পিতভাবে গোলপাতার গাছ রোপণ করে এটাকে বাড়তে দিতে হবে। এখানকার জেলেরা যেন নিয়ম মেনে মাছ ধরেন সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। সব ধরনের মাছ ধরা যাবে না। যে মাছগুলো বিপন্ন সেগুলো ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে হবে। আর জেলেদের জালের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে চলতে হবে।
বন সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। বন অধিদপ্তরের আলোচকদের বক্তব্যে তা উঠে এসেছে।
-B










