কাল আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা আসছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো তার এ সফরের মুখ্য উদ্দেশ্য। এ জন্য তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ নিয়ে আসছেন। আগামী জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি যেতে পারেন।
ঢাকা সফরকালে জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। জয়শঙ্করের সম্মানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নৈশভোজের আয়োজন করবেন।
এ ব্যাপারে গতকাল গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমান সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে আমি স্বাগত জানাই। তিনি হয়তো একটি সুখবর নিয়ে আসবেন। তবে কী খবর নিয়ে আসবেন এখনো আমরা জানি না। এটা একটি সারপ্রাইজ হতে পারে। তিনি বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যম থেকে জেনেছি, জয়শঙ্কর আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণ আগেও ছিল। এখন হয়তো উনি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণপত্র দেবেন। সেখনে দিনক্ষণ উল্লেখ থাকতে পারে। তবে সফরের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে প্রধানমন্ত্রীই নেবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের জেসিসি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ পরামর্শক কমিশন) বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরে বৈঠকের তারিখ চূড়ান্ত হতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের অনিষ্পন্ন ইস্যুগুলো আলোচনা করব।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে কাজ চলছে। তিস্তা নদীর পানি বন্টন, সীমান্ত হত্যা বন্ধÑ এসব ইস্যু নিয়ে আমরা সবসময়ই আলোচনা করছি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, জেসিসি বৈঠক আগামী মে মাসের শেষে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে তার আগে আরো কয়েকটি বৈঠক হবে। ইতোমধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক সামনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। দুই দেশের অন্যান্য ফোরামের বৈঠকগুলো শেষ হলে জেসিসি অনুষ্ঠিত হবে।
অনিষ্পন্ন ইস্যুগুলো সমাধানই বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে থাকবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য অনেক বেড়েছে। বৃদ্ধির এই পরিমাণ শত কোটি ডলারের বেশি। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরো বাড়ানোর উপায় নিয়ে আমরা আলোচনা করবে। এ ছাড়া পাট রফতানিতে প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। দুই দেশের সীমান্তে আরো হাট বসানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। বাংলাদেশের মুজিবনগর থেকে ভারতের নদীয়াতে যাওয়া স্বাধীনতা সড়ক আমরা চালু করতে চাই।
-B










