মিরসরাইয়ের মহামায়ায় কায়াকিং-প্রিতিদিন বাড়ছে পর্যটক
চারিদিকে সবুজের চাদরে মোড়ানো লেকের স্বচ্ছ অথৈ পনিতে নিজেই চালাবেন নৌকা।
এমন অ্যাডভেঞ্চার নিশ্চয়ই কেউ মিস করতে চাইবেন না। আর সে কারণেই মহামায়া কায়াকিং পয়েন্টে প্রিতিদিনই বাড়ছে পর্যটকের ভিড়। প্রতিদিন কায়াকিং করতে এখানে ছুটে আসছেন পর্যটকরা।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মহামায়া লেক যেন এক মায়াজাল। একবার যিনি আসবেন বার বার আসতে চাইবেন তিনি।
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি পুরো এলাকাটি। লেকের স্বচ্ছ নীলাভ জল, চার পাশের সবুজের চাদর আর সুনসান নীরবতায় হারিয়ে যেতে চায় যে কেউই। এমন পরিবেশে পর্যটক টানতে নতুনভাবে যোগ হয়েছে কায়াকিং অ্যাডভেঞ্চার।
মহামায়া কায়াকিং পয়েন্টের পরিচালক মোহাম্মদ শামীম জানান, বাংলাদেশে কাপ্তাইয়ের পরে এখানেই আছে কায়েক নৌকা। আর কোথাও এমন অ্যাডভেঞ্চার নেয়ার সুযোগ নেই যাত্রীদের। আমরা ২০১৭ সাল থেকে মহামায়াতে কায়াকিং শুরু করেছি। শুরু থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি।
তবে ২০২০-২০২১ সালে করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটন স্পট বন্ধ থাকার কারণে লোকজন না আসায় আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের জমে উঠেছে কায়াকিং পয়েন্ট।
তিনি জানান, মহামায়ার কায়াকগুলো অন্য স্থান থেকে আরো উন্নত ও নিরাপদ। এগুলো আমদানি করা হয়েছে ব্রাজিল থেকে। প্রতিদিন শতাধিক পর্যটক কায়াকিং করে থাকেন। তবে শুক্র ও শনিবার এবং যেকোনো বন্ধের অনেক দিন লোক কায়াকিং করেন।
পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, মহামায়ায় এখন ৪০টি কায়াক নৌকা রয়েছে।
জনপ্রতি এক ঘণ্টা ১৫০ টাকা ও ৩০ মিনিট ১০০ টাকা নেয়া হয়। অনেক অনলাইনে আগে বুকিং দিয়ে রাখে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড় দেয়া হয়। এ ছাড়া এখানে কায়াকিং ছাড়াও রাতে তাঁবু টাঙিয়ে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে একদিন থাকা-খাওয়া। রাতে রয়েছে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন। জনপ্রতি পুরো প্যাকেজ ৭২০ টাকা। লোকজন সংখ্যায় বেশি হলে টাকার পরিমাণ কিছু ছাড় দেয়া হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম এই লেকে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনসারের জন্য আবেদন করেছি। এছাড়া পুলিশ প্রশাসন আমাদের সব সময় সহযোগিতা করছেন। আমরা পরিবেশবান্ধব কায়াকিংয়ের ব্যবস্থা করেছি।
দেশে কাপ্তাই লেকের পর দ্বিতীয় মহামায়াতে কায়াকিং ব্যবস্থা করা করা হয়েছে। দিন দিন এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষার্থী কায়াকিংয়ে আগ্রহী।
কায়াকিং করতে গিয়ে কথা হয় দর্শনার্থী তাজুল, টিটু, রাতুল পলাশের সাথে। তারা জানান, নিজ হাতে নৌকা চালিয়ে পাহাড় আর সবুজের নীলাভ জলের বুক চিড়ে ইচ্ছেমতো ঘুরতে দারুণ লাগে।
চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকমল জানান, কায়াকিং পয়েন্টের লোকেরাই শিখিয়ে দেয় কিভাবে কায়াকিং করতে হয়। যার কারণে চালাতে তেমন বেগ পেতে হয় না। বিষয়টাতে দারুণ অ্যাডভেঞ্চার রয়েছে।
-B










