২৭ বছর ঝুলে আছে খান জাহান আলী বিমানবন্দর
মোংলা বন্দরের অদূরে খুলনা-মোংলা সড়কের পাশে রামপালের ফয়লায় খানজাহান আলী বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজে গতি আসেনি গেল ২৭ বছরেও। কবে এটি বাস্তবায়ন হবে; সেই নিশ্চয়তাও মিলছে না কারও কাছ থেকে। পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ার পর এ বিমানবন্দরের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।
এ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে নানা তথ্য। বিমানবন্দরটি দ্রুত চালু করার দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষেরও। তারা বলছেন, বিমানবন্দর না থাকায় খুলনা-বাগেরহাটে আসতে চান না বিদেশি ব্যবসায়ীরা। পর্যটকও বাড়ছে না সুন্দরবনে।
পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) না রাজস্ব খাতে হবে এটা নিয়ে জটিলতা ও পদ্মা সেতু হওয়ার পর বিমানবন্দরের সাম্ভব্য কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় সহ নানা কারণে থমকে আছে নির্মাণ কাজ।
কবে নাগাদ এ বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু হবে তা জানেন না কেউ। তবে বিমানবন্দরটি নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা যেমন সমৃদ্ধ হবে তেমনি বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, জমি অধিগ্রহণ, মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ছাড়া কোনো কাজই হয়নি। প্রকল্প এলাকায় একটি সাইনবোর্ড থাকায় কেবল এটির অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। কবে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে, এটি দিয়ে উড়োজাহাজ ওঠানামা করবে কবে—সেই খবর কেউ দিতে পারছেন না। ফলে পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ার পর এ বিমানবন্দরের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) না রাজস্ব খাতে হবে এটা নিয়ে জটিলতা আছে। ফলে এ মুহূর্তে এটিকে সম্ভাব্য কার্যকর একটি বিমানবন্দর হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, হয়তো এটি কার্যকারিতার পর্যায়ে যেতে আরও সময় লাগবে। যে কারণে খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ কিছুটা ধীরগতিতে হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রমতে, বাগেরহাট শহর, মোংলা বন্দর ও বিভাগীয় শহর খুলনার সঙ্গে প্রায় ২৫ মিনিটের দূরত্বে নির্মিত হচ্ছে এই বিমান বন্দরটি। বিমান বন্দরটি বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ইকো ট্যুরিজম, হযরত খান জাহান আলীর মাজার ও বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের দ্রুত বিকাশ, মংলা সমুদ্র বন্দর, মংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা, প্রক্রিয়াধীন মংলা-ঢাকা ও মংলা-খুলনা রেলপথ, চিংড়ি শিল্পসহ বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে খান জাহান আলী বিমানবন্দর অন্যতম। বিমানবন্দরের জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। মূল মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রায় ৮০ ভাগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরের প্রাচীরের কাজও শেষ পর্যায়ে। কিন্তু এটা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) না রাজস্ব খাতে হবে এটা নিয়ে জটিলতা আছে।
-B










