নতুন ২১টি বিমান ইজারা নিতে চায় লঙ্কান এয়ারলাইন্স

স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় হিমশিম খাওয়া শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন্সের প্রায় দুই ডজন বিমান ইজারা নেওয়ার একটি পরিকল্পনা সাধারণ জনগণ ও বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার মুখে পড়েছে।
দেনার দায়ে দেউলিয়া শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ‘শ্রীলঙ্কা এয়ারলাইন্স গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) নিজেদের ওয়েবসাইটে ৪২টি বিমান ইজারা নেওয়ার দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
শ্রীলঙ্কা এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান অশোকা পাথিরাগে বলেছেন, এখন বহরে থাকা বিমানগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে যেগুলো অনুপযোগী হয়ে যাবে সেগুলোর বদলে প্রাথমিকভাবে নতুন ২১টি বিমান ইজারা নেওয়া হবে, যা তাদের ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের ব্যবসা পরিকল্পনারই অংশ।
ইজারার অর্থ শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সই দেবে। আমরা সরকারের তহবিলের ওপর নির্ভর করব না। এয়ারলাইন্স মুনাফা করছে। আমাদের ঋণ আছে, তা পরিশোধের জন্য আমাদের আয় করতে হবে। ঋণের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া দ্বীপদেশের বিমান সংস্থার এমন কাণ্ডে হাসি-ঠাট্টা ও সমালোচনার রোল উঠেছে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধমে।
টুইটার ব্যবহারকারী শিব থিয়াগামূর্তি বলেছেন, ‘নতুন বিমান দিয়ে কী হবে, যখন আপনার কাছে সেটি ওড়ানোর মতো জ্বালানিই নেই।’ দেশটির প্রধান বিরোধী দল সামাগি জানা বালাওয়েগায়া (এসজেবি) জোটের সাংসদ হার্ষা ডি সিলভা টুইটে লিখেছেন, ‘এটা অবশ্যই কৌতুক। শ্রীলঙ্কা দেউলিয়া। জ্বালানি, গ্যাস বা ওষুধ নেই, এই ছাইপাশের (ইজারার) টাকা কোথা থেকে আসবে? দ্রুত ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।’
আরেক বিরোধী দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) টুইটে বিমান ইজারা নেওয়ার এ পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। পরিকল্পনাটি নিয়ে অসংখ্য শ্রীলঙ্কান অনলাইনে তাদের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। নতুন করে হাত পাততে সোমবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে কলম্বো। এর মধ্যেই বিমানের এই বিজ্ঞাপনে নতুন করে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন দেশটির নাগরিকরা।
প্রসঙ্গত, করোনা মহামারি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ধসে যাওয়া পর্যটন ব্যবসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সকেও বিপদে ফেলেছে। ২০১৯-২০ সালেই তাদের ৪ হাজার ৪১৪ কোটি লঙ্কান রুপি লোকসান হয়েছে, আগের বছরও যার পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১৭০ কোটি।
-B










