কভিডের ধাক্কা কাটিয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের উড়োজাহাজ পরিষেবা

মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথের যাত্রী পরিবহন ২০২৩ সালে কভিড-পূর্ব পর্যায়ের ৯৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে। বিভিন্ন গন্তব্যে আকাশপথে চলাচলকারী যাত্রীসংখ্যা দাঁড়াবে ৩৯ কোটি ৪০ লাখ জন। মহামারীর অভিঘাতে বিশ্বব্যাপী আকাশপথে পরিবহন যে বিঘ্নিত হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্য তার প্রভাব থেকে পুনরুদ্ধার অব্যাহত রেখেছে।
এয়ারপোর্ট কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ল্ডের তথ্যানুসারে, ২০২৪ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যাত্রীসংখ্যা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হবে। আকাশপথে চলাচলকারী যাত্রীসংখ্যা দাঁড়াবে ৪২ কোটি ৯০ লাখ। অর্থাৎ ২০১৯ সালের পর্যায়ের ১০৫ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাবে। এয়ারপোর্ট ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন ২০২৩-২৪ সালের পূর্বাভাসে দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্য আকাশপথে দ্রুততম পুনরুদ্ধার দেখেছে ২০২২ সালে। এ ধারা ২০২৩ সালেও অব্যাহত থাকবে। ব্রিটিশ আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিবন্ধকতার পরও মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারের রেকর্ড তৈরি করেছে।
বৃহত্তম আরব অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈশ্বিক অবকাশ ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে। ২০১৯ সালের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে পর্যটক আগমনের সংখ্যা ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এসিআই ওয়ার্ল্ড পূর্বাভাস করেছে, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী আকাশপথে ভ্রমণ প্রায় প্রাক-মহামারী স্তরে ফিরে আসবে।
২০২৩ সালে বৈশ্বিক যাত্রীর পরিমাণ ৮৬০ কোটি যাত্রীতে পৌঁছাবে, যা ২০১৯ সালের পর্যায়ের ৯৪ দশমিক ২ শতাংশ। আগামী বছর বিশ্বব্যাপী যাত্রী ট্র্যাফিক পুনরুদ্ধারের জন্য মাইলফলক বছর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ যাত্রীসংখ্যা এরই মধ্যে ৯৪০ কোটিতে পৌঁছেছে। এসিআই ওয়ার্ল্ডের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ৯০ কোটি যাত্রী হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
এসিআই ওয়ার্ল্ডের মহাপরিচালক লুইস ফেলিপে ডি অলিভেইরা জানায়, এ পুনরুদ্ধারের কারণ চীনা বাজার আবার চালু হওয়া ও অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসা ও মূল্যস্ফীতি চাপ কমে আসা। যদিও নেতিবাচক ঝুঁকি বিদ্যমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: পর্যটক আকৃষ্ট করতে মালদ্বীপের আদলে সাজছে সেন্টমার্টিন
উড়োজাহাজ পরিষেবা খাতটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি অবিচল শক্তি হিসেবে রয়ে গেছে। এ খাতের মাধ্যমে মানুষ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করছে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চল চলতি বছরে প্রাক-কভিড স্তর অতিক্রম করা বিশ্বের প্রথম অঞ্চল হবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে। চলতি বছর অঞ্চলটি ৭০ কোটি ৭০ লাখ যাত্রীতে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে, যা ২০১৯ সালের স্তরের ১০২ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। ২০২৪ সালে এ অঞ্চলে ৭৫ কোটি ৯০ লাখ যাত্রী আসবে, যা প্রাক-কভিড স্তরের ১১০ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।
২০২৩ সালের প্রথমার্ধে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যাত্রী পরিবহনে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে। তবে পর্যটন খাতের চ্যালেঞ্জ ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পুনরুদ্ধার ধীর হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রায় ২৯০ কোটি যাত্রী পাবে, যা মহামারী-পূর্ব পর্যায়ের ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
এসিআই ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, ইউরোপে পুনরুদ্ধারের গতি ধীর হবে। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ ইউরোপীয় অঞ্চলে প্রায় ২৩০ কোটি যাত্রী আকাশপথে চলাচল করবে, যা ২০১৯ সালের স্তরের ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ থাকবে।
-B










