পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিচ্ছে মিয়ানমার

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিচ্ছে মিয়ানমার। আগামী রোববার (১৫ মে ) থেকে পর্যটকদের আবেদন গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে জান্তা কর্তৃপক্ষ। তবে দেশটির সামরিক জান্তার বিরোধী বিভিন্ন পক্ষ এ অবস্থায় দেশটিতে ভ্রমণে না যেতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, বর্তমান কর্তৃপক্ষ আবারো পর্যটকদের সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে যাচ্ছে। আগামী রোববার থেকে বিদেশীরা এ ব্যাপারে আবেদন করতে পারবেন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনাভাইরাস মহামারীর শুরুতে সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে পর্যটকদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দেয় মিয়ানমার। এরপর দেশটির সেনাবাহিনী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির বেসামরিক সরকারকে উৎখাতের পর বিশ্ব থেকে দেশটি আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশটি পর্যটকশূন্যই থেকে যায়।
উল্লেখ্য, কয়েক দশকের সামরিক শাসনের পর ২০১১ সালে মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে পর্যটকরা ব্যাপকহারে মিয়ানমার ভ্রমণে যেতে শুরু করেন। ভিন্ন রকম কিছু স্পটের কারণে মিয়ানমার দ্রুত পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দেশটির আয়ের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে এটি। কিন্তু করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়লে অং সান সু চির তৎকালীন সরকার সীমানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। গত বছর একপর্যায়ে দৈনিক ৪০ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয় দেশটিতে। এ পর্যন্ত সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।
এ অবস্থায় জান্তা সরকার পর্যটন খাত আবারো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ মে ২০২২ থেকে ই-ভিসা (পর্যটন) আবেদন গ্রহণ করা হবে।
এ দিকে সরকারবিরোধী গ্রুপগুলো পর্যটকদের মিয়ানমার এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, মিয়ানমারে এ মুহূর্তে ভ্রমণ করতে আসলে জান্তা সরকারকেই সাহায্য করা হবে। মিয়ানমারের জাস্টিস ফর অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ বলেছে, যদি বিদেশী দর্শনার্থীরা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের মালিকানাধীন হোটেল এবং পরিবহন এড়িয়ে চলে, তবুও তারা ভিসা ফি, বীমা ও ট্যাক্সের মাধ্যমে জান্তাকে অর্থায়ন করবে। তাই আমরা মিয়ানমারে ট্যুর বয়কট করার আহ্বান জানাই।
-B










