সেন্টমার্টিন রক্ষায় নয়া উদ্যোগ

সেন্টমার্টিন রক্ষায় নয়া উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আগামী ২ বছরের মধ্যে প্লাস্টিকমুক্ত হবে দ্বীপটি। এর আগে দ্বীপের পর্যটন বিষয়ে নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে সেন্টমার্টিনে ঢুকতে পর্যটকদের আগাম রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা, পর্যটকের সংখ্যা কমানো, যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে।
তার পরই সেন্টমার্টিনকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে নতুন প্রকল্প নিয়েছে ক্লাইমেট পার্লামেন্ট সদস্যদের সংগঠন দি আর্থ ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। সংস্থাটি বলছে, আগামী দুই বছরেই এই দ্বীপকে প্লাস্টিকমুক্ত করবে তারা।
ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পর্যটক ও প্লাস্টিকে বিপর্যস্ত দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বীপ সেন্টমার্টিন। প্লাস্টিক সমুদ্রদূষণ ও এই দ্বীপের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি ধ্বংস করা হচ্ছে সেখানকার জীববৈচিত্র্যও। তাই এই দ্বীপে পর্যটক আগমন নিষিদ্ধের পরামর্শও উঠে এসেছে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে।
উদ্যোক্তারা জানান, সেন্টমার্টিনকে প্লাস্টিক মুক্ত করতে প্রথমে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্যগুলোকে আলাদা করতে আলাদা বিন ব্যবহার শুরু করবে। যার মাধ্যমে অপচনশীল বর্জ্য অর্থাৎ প্লাস্টিক আলাদা হয়ে যাবে। সেই প্লাস্টিক সেন্টমার্টিন থেকে সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে দ্বীপটি মুক্ত করবেন তারা।
জানা গেছে সেন্টমার্টিনের পর আগামীতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকেও প্লাস্টিকমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে। সরকারের সব পরিকল্পনা যথাযথ বাস্তবায়ন করা হবে। এর জন্য আমরা সবাই নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করব। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে এর একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
আরও পড়ুন: স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পর্যটনের বড় ভূমিকা রয়েছে
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (টোয়াব) সভাপতি শিবুল আজম কোরেশী জানান, এর আগেও ১৯৯৬ সালে সেন্টমার্টিনকে ইসিএ ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন সেখানে মাত্র একটি হোটেল ছিল। ইসি এ অনুযায়ী এখানে আর একটি ভবনও ওঠার কথা ছিল না। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিলেও সেটা বাস্তবায়ন করা যায়নি, এখন সেখানে আড়াই শ’র বেশি হোটেল আছে। তাই এটাকে মাথায় রেখে বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ও ট্যুরিস্টদের বাধ্য করতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে পারলে তার সফলতা সম্ভব।
অপরদিকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা বর্জ্যমুক্ত সেন্টমার্টিন করতে অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একটি ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবখানে ঘুরে জায়গা পাওয়া যায়নি। এখন করতে হলে জমি কিনে করতে হবে, কিন্তু ট্যুরিজম বোর্ডে বাজেটে সেটি করা সম্ভব হয়নি।
তার ভাষ্য, সেন্টমার্টিন এখন একটি মৃত দ্বীপ বলা যেতে পারে। আমরা ধারণক্ষমতার অধিক ট্যুরিস্ট নিয়ে এটিকে মেরে ফেলেছি। সেন্টমার্টিনকে বাঁচানোর উদ্যোগের চেয়েও আমাদের এখন বিকল্পকে তুলে ধরতে বেশি মনোযোগী হওয়া দরকার। তাই সোনাদিয়া দ্বীপ সেন্টমার্টিনের চেয়ে কম আকর্ষণীয় নয়। ট্যুরিস্টদেরকে সেটাতেও আকৃষ্ট করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
-B










