ঢাকায় আসছে নতুন প্রযুক্তি, ফ্লাইটে ওঠার আগেই শনাক্ত হবে অপরাধী

বিমানবন্দর হয়ে অপরাধীদের আসা-যাওয়া বন্ধ করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম (এপিআইএস) চালু করতে যাচ্ছে ।
আন্তর্জাতিক কোনো সন্ত্রাসী দেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেই তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে আগেভাগেই পৌঁছে যাবে। আবার দেশের কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী কিংবা অপরাধী ঢাকা ছাড়তে চাইলেও জানা যাবে আগাম তথ্য।
এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখা যাবে বলে আশা বেবিচকের। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ৪০ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক যাত্রী ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এই যাত্রীদের মধ্যে অপরাধী, মানব পাচার বা মাদক চোরাকারবারি থাকলে শনাক্ত করা কঠিন। কিন্তু এপিআইএসের মাধ্যমে এসব অপরাধী শনাক্ত করা সহজ হবে।
মূলত এপিআইএসের মাধ্যমে অন্য দেশের কোনো বিমানবন্দর থেকে আসা একটি ফ্লাইটের সব ক্রু ও যাত্রীর বায়োমেট্রিক উপাত্ত এবং ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তথ্য সংগ্রহের কাজটি টিকিট কাটার সময়ই হয়ে যাবে। এরপর উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের আগেই সেই তথ্য এপিআইএসের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে চলে আসবে।
এপিআইএস থেকে তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার আগেই উড়োজাহাজের সব আরোহীর তথ্য-উপাত্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। বিশ্লেষণের জন্য এপিআই সিস্টেমটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তালিকার সঙ্গে উড়োজাহাজের যাত্রীদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করে নেবে। নাম, নামের বানান, নামের অংশবিশেষ বা নামের বানানের বৈচিত্র্যও বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলে সন্দেহভাজন কাউকে পেলেই সেই তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেবে এপিআইএস।
একইভাবে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে কোনো অপরাধী দেশ ছাড়তে চাইলে বোর্ডিং পাসের আগেই তাঁর তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেবে এপিআইএস।
বেবিচক বলছে, এপিআইএস বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস, অপরাধীদের দেশত্যাগ বা দেশে প্রবেশ, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধ করা সহজ হবে। এ ছাড়া বিমানবন্দরে আগমনকারী যাত্রীদের তথ্য আগাম হাতে পাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করতে পারবেন।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন পুলিশ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগ, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এপিআই সিস্টেমের তথ্য ব্যবহার করতে পারবে।
বেবিচকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আকাশপথে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস ও অপরাধের বিস্তারের পাশাপাশি যাত্রী সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাসমূহের ওপরও চাপ বাড়ছে। তাদের ব্যস্ততার কারণে নিরাপত্তা ফাঁকি দিয়ে আন্তঃদেশীয় অপরাধসহ চোরাচালান বন্ধ করে বিমানবন্দর ও সার্বিকভাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
-B










