হজ নিবন্ধনে সাড়া নেই

হজ নিবন্ধনে কাক্সিক্ষত সাড়া মেলেনি। গত ২৬ দিনে মাত্র ৬ হাজার ৫৯৫ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন। এখনো বাকি রয়েছে এক লাখ ২০ হাজার ৬০৩ জন।
এদিকে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে হজযাত্রীদের চূড়ান্ত তালিকা পাঠাতে হবে। এজন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হজযাত্রী নিবন্ধনের চূড়ান্ত সময় দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না বলেও মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য সৌদি সরকার এবার আগেভাগেই হজযাত্রীদের নিবন্ধনের তাগিদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে। সেজন্য দেশেও হজযাত্রীদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে।
প্যাকেজ ঘোষণার পর ধর্ম মন্ত্রণালয় গত ১৫ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরু করে। সরকারি ও বেসরকারি দু’টি মাধ্যমেই নিবন্ধন শুরু হলেও হজযাত্রীদের তেমন একটা সাড়া মেলেনি। মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটার মধ্যে সরকারি কোটা রয়েছে ১০ হাজার ১৯৮ এবং বেসরকারি কোটা রয়েছে এক লাখ ১৭ হাজার।
হজ নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল গতকাল ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু গত ২৬ দিনে মাত্র সাড়ে ৬ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে যেতে ১ হাজার ৪১৬ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন ৫ হাজার ১৭৯ জন। ফলে এখনো বেশির ভাগ কোটা খালি রয়ে গেছে।
এ প্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল জারি করা এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাজকীয় সৌদি সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০২৪ সালের হজযাত্রীর চূড়ান্ত তালিকা আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এছাড়া ২০২৪ সালের হজে মিনার তাঁবু এলাকাকে পাঁচটি জোনে এবং প্রতিটি জোনকে চারটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছে। আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে মিনায় তাঁবু বরাদ্দ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, এ বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা পাওয়া না গেলে মিনায় কাক্সিক্ষত স্থানে তাঁবু পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে মিনায় জামারাহর নিকটবর্তী এলাকার পরিবর্তে দূরবর্তী নিউ মুযদালিফা ও পাহাড়ি এলাকায় তাঁবু গ্রহণ করতে হবে। এমন পরিস্থিতি এড়ানোর স্বার্থে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় চূড়ান্তভাবে বৃদ্ধি করা হলো। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,
১. সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রী হজ নিবন্ধন করতে পারবেন।
২. সরকারি মাধ্যম ও এজেন্সির জন্য নির্ধারিত কোটা পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে নিবন্ধন সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
৩. সরকারি মাধ্যমে সব প্যাকেজে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে।
৪. প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট টাকা আগামী বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবশ্যিকভাবে একই ব্যাংকে জমা প্রদান করতে হবে, প্রাথমিক নিবন্ধনের পর অবশিষ্ট টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা প্রদানে ব্যর্থ হলে তিনি হজে যেতে পারবেন না এবং প্রদত্ত দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি বাবদ ব্যয় হবে বিধায় ওই টাকা ফেরত প্রদান করা হবে না।
৫. হজযাত্রীর নিবন্ধনের ক্রম অনুসারে সরকারি মাধ্যমে ভাড়াকৃত বাড়ির মধ্যে হারাম শরিফ থেকে অপেক্ষাকৃত কাছের বাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয়া হবে। ৬. প্রাথমিক নিবন্ধনের অর্থ জমা প্রদানের পর প্যাকেজ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ থাকবে না। ৭. সরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজে ট্রেন ছাড়া নিবন্ধনের অপশন বাতিল করা হলো।
৮. বিমান ভাড়া ও সৌদি আরবের ব্যয় বাবদ দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা জমা দিয়ে বেসরকারি এজেন্সিতে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে।
৯. হজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধন ফি পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩০ হাজার ৭৫২ টাকার পরিবর্তে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলো।
১০. হজ এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব ছাড়া প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের টাকা কোনো ব্যক্তির কাছে নগদ প্রদান করা যাবে না এবং হজ এজেন্সিও নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারবে না।
১১. হজ কার্যক্রমের সব সেবা ও প্যাকেজ মূল্য বিস্তারিত উল্লেখপূর্বক হজযাত্রী ও এজেন্সির মধ্যে লিখিত চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে কোনো পক্ষের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না। ১২. হজে গমনের শর্তাবলি, করণীয় ও হজযাত্রীর সুযোগ-সুবিধা হজ প্যাকেজ ২০২৪ থেকে বিস্তারিত জানা যাবে।
১৩. হজ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ১৬১৩৬ নম্বরে ফোন করে ও www.hajj.gov.bd থেকে জানা যাবে। ১৪. e-Hajj BD মোবাইল App ব্যবহার করে ঘরে বসে হজের নিবন্ধন ভাউচার তৈরি করা যাবে।
-B










