ফিলিপাইনে পেঁয়াজ এখন বিলাসপণ্য - পর্যটন ব্যবসায়ীরা বিপাকে

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে বহুমূল্য হয়ে উঠতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজ।
চলতি মাসের শুরুতে দেশটির বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০০ পেসোয় (স্থানীয় মুদ্রা)। এ দাম ফিলিপাইনের বাজারে এক কেজি গরুর মাংসের চেয়েও বেশি; এমনকি দৈনিক গড় মজুরির চেয়েও। পরিসংখ্যান বলছে, চার মাস আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল মানভেদে ১২০ থেকে ১৭০ পেসো। ২০২১ সালের মাঝামাঝি এর দাম ছিল ৯০ থেকে ১২০ পেসোর মধ্যে। গত বছর দেশটির মূল্যস্ফীতির মূল চালকই ছিল পেঁয়াজ।
যদিও সম্প্রতি দাম কিছুটা কমেছে, কিন্তু এখনো পেঁয়াজ ফিলিপাইনের বেশির ভাগ সাধারণ মানুষের জন্য বিলাসপণ্য। স্থানীয় এক পিজা ব্যবসায়ী রিজালডা মাউনেস বলেন, সাধারণত দিনে তিন-চার কেজি পেঁয়াজের প্রয়োজন হয়। এখন কেবল আধা কেজি কেনার সামর্থ্য হচ্ছে। পিজার ওপর টপিং হিসেবে পেঁয়াজ দেয়া হচ্ছে না, সেটি ভোক্তাদের জানানোও হচ্ছে। ভোক্তারাও বিষয়টি বুঝতে পারছেন কারণ পরিবারগুলোও পেঁয়াজের তীব্র সংকট মোকাবেলা করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলিপাইনের খাবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গের উচ্চমূল্যই বলে দেয়, দেশটির জীবনযাপনের ব্যয় কী পরিমাণে বেড়েছে। গত মাসেই মূল্যস্ফীতিতে ১৪ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে ফিলিপাইন। খাবার থেকে শুরু করে জ্বালানি, সবকিছুর দামই বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান হারে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ফারদিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। এর আগে সরবরাহ ঠিক রাখতে লাল ও হলুদ পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদনও দেন তিনি।
মূলত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কারণে ফিলিপাইনে চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে পেঁয়াজের উৎপাদন। যার কারণে বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।
আইএনজি ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ নিকোলাস মাপা বলেন, গত আগস্টে কৃষি বিভাগ পূর্বাভাসে জানিয়েছিল যে মূল ফসলগুলোয় ঘাটতি দেখা দেবে। এর কয়েক মাসের মধ্যে দুটি বড় ধরনের ঝড়ের মুখে পড়ে ফিলিপাইন, যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফলন। আবার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
ফিলিপাইনের পর্যটন এলাকাগুলোর ক্ষুদ্র খাবার ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। যেহেতু তাদের খাবারের মূল উপাদানই পেঁয়াজ, তাই উচ্চমূল্যের পেঁয়াজ তাদের মূল দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দামের কারণে পেঁয়াজের চোরাচালানও বেড়েছে। সম্প্রতি ফিলিপাইন এয়ারলাইনসের ১০ জন ক্রুকে সতর্ক করা হয়েছে, যারা লাগেজে ভরে প্রায় ৪০ কেজি পেঁয়াজ ও অন্যান্য ফল বহন করছিলেন। এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে যাত্রীদেরও সতর্ক করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে এ সংকট প্রেসিডেন্ট মার্কোসের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও পণ্য সরবরাহ বাড়াতে ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফসল ভালো হলে, অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ঠিক থাকলে নাটকীয়ভাবেই কমবে পেঁয়াজের দাম। সেজন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে কেবল।
-B










