পদ্মা সেতু : পর্যটন সম্ভাবনার নতুন করিডর

কৌতূহলী মানুষ ছুটতে চায় এখান থেকে ওখানে। যেখানে যত দূরে চোখ যায়-সেখানে সে যেতে চায়। দুরন্ত বাতাসে তার আকাঙ্ক্ষা তাই ঘুরেই বেড়ায়।
গৌরবের পদ্মা সেতু খুলে দিয়েছে হাজারো সেই সম্ভাবনার দুয়ার। ধূসর রঙের দ্বিতল কাঠামোর পদ্মা সেতু। থই থই জলরাশি আর খরস্রোতার মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জাতীয় স্থাপনা পদ্মা সেতু। এই পদ্মা সেতুকে ঘিরে মানুষের অন্যরকম অনুভূতি ও উচ্ছ্বাসের যেন শেষ নেই।
ইতিমধ্যে পদ্মা সেতুর দুই পাড় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক পদ্মার দুই পাড়ে নান্দনিক সৌন্দর্য দেখার জন্য ঘুরতে যায়। মাওয়া ও শরীয়তপুর প্রান্তে রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট নানাবিধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে।
পদ্মা সেতুর ল্যান্ডিং পয়েন্ট জাজিরায় তাঁত পল্লী প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান ও খ্যাতনামা দেশীয় অনেক প্রতিষ্ঠান এসব এলাকায় বিনিয়োগ করছে যা উক্ত অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
দেশে তিনটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট রয়েছে তন্মধ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ ও ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন এই দুইটি হেরিটেজ দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত তবে ওই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পর্যটকদের পছন্দের পর্যটন কেন্দ্র হওয়া স্বত্বেও ভ্রমণে আগ্রহ ছিল কম। পদ্মা সেতুর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন আকর্ষণগুলোতে ভ্রমণে আগ্রহ বাড়বে।
দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন আকর্ষণগুলোর মধ্যে বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ, ভাসমান পেয়ারা বাজার, ঐতিহাসিক দুর্গা সাগর, কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইন্সটিটিউট, খান জাহান আলী সেতু, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর, জাতিসংঘ পার্ক, দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের মাজার, রূপসা নদী, শহীদ হাদিস পার্ক, খানজাহান আলী কর্তৃক খননকৃত বড়দীঘি, খুলনা শিপইয়ার্ড, গল্লামারী স্মৃতিসৌধ ও বধ্যভূমি, জাহানাবাদ বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্ক, পিঠাভোগ, প্রেম কানন বকুলতলা, মংলা পোর্ট, রাড়ুলী, রেলস্টেশনের কাছে মিস্টার চার্লির কুঠিবাড়ি, সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক ও অন্যান্য পর্যটন আকর্ষণগুলোর চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সাগরকন্যা কুয়াকাটা
সাগরকন্যা কুয়াকাটার সাদা বালির সৈকতের তীর থেকে বঙ্গোপসাগরের সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখা যায়। সৈকতের পূর্ব দিকে গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন অবস্থিত।
কুয়াকাটা পর্যটকদের মনোযোগ কাড়তে পারেনি কেবল পদ্মা নদীর কারণে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোতালিব শরীফ বলেন, ‘পদ্মা আমাদের আলাদা করে রেখেছিল রাজধানী তথা সারা দেশ থেকে। এই নদীর কারণে কুয়াকাটায় বিনিয়োগের গতিও ছিল অত্যন্ত ধীর। এখন পর্যন্ত সৈকত এলাকায় শতাধিক হোটেল-মোটেল রেস্তোরাঁ গড়ে উঠলেও তাতে নেই তেমন পেশাদারিত্ব। আমাদের সেই আক্ষেপের দিন ফুরোচ্ছে। পদ্মা সেতু চালু হলে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টায় রাজধানী থেকে কুয়াকাটা পৌঁছানো যাবে। পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করবে সৈকত।
তাছাড়াও, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে এখানকার হোটেল-মোটেলগুলো পর্যটকদের জন্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া হ্রাসের ঘোষণাও দিয়েছে।
Kuakata Beach
কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট ( কুটুম)’র চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন বিপ্লব বলেন, এরই মধ্যে বিপুল বিনিয়োগের আশা নিয়ে এখানে আসতে শুরু করেছে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং শিল্প গ্রুপগুলো।’ কুয়াকাটার পাশাপাশি পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্থাপিত পায়রা সমুদ্রবন্দর নিয়েও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে দক্ষিণের মানুষ। বর্তমানে অপারেশনাল কার্যক্রমে থাকা পায়রাবন্দরে নিয়মিত ভিড়ছে সমুদ্রগামী জাহাজ।
বিলাস বহুল কোচ সার্ভিস গ্রীন লাইন' পরিবহনের ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার বলেন, স্বপ্নের এই সেতু যান চলাচলে খুলে দেয়ায় তাদের কোম্পানি ঢাকা-কুয়াকাটা -বরিশাল-খুলনা -সাতক্ষীরা রুটে ৩০টি নতুন বাস দিয়েছে। পর্যটক আকর্ষণে তারা এই প্রথম ঢাকা - কুয়াকাটা- কলাপাড়া রুটে নতুন সার্ভিস চালু করেছে।
সুন্দরবন
পদ্মা সেতুতে চালু হওয়ায় বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনজুড়ে বইছে সুবাতাস। ভ্রমণ মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়বে। সমৃদ্ধ হবে সুন্দরবন বিভাগের অর্থনীতি।
সুন্দরবনকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয়, দৃষ্টিনন্দন ও আনন্দদায়ক করে তুলেছে সুন্দরবন ঘিরে মুন্সিগঞ্জ এলাকায় গড়ে ওঠা আকাশলীনা ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার, মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার, দোবেকী ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার, ক্যারাম মুরা ম্যানগ্রোভ ভিলেজ, ক্যারাম মুরা পাখি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, কৈখালী সীমান্ত ও পাঁচ নদীর মোহনা, উড়ালমন আদিবাসী গ্রাম ও নৌকা ভ্রমণ সাইট এবং শিয়ালকুনি বনায়ন।

বেঙ্গল ট্যুরের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ হোসাইন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় অধিকাংশ সময় পর্যটকরা সুন্দরবনে আসতে চাইতো না। এখন যেহেতু পদ্মা সেতু চালু হয়েছে তাই সেই চিরচেনা চিত্র একেবারেই পাল্টে যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্ব কমে সহজ হওয়ায় এখন পর্যটকদের আকর্ষণও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
" প্রতিবছর২.৫ থেকে ৩ লাখ পর্যটক বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন পরিদর্শন করে এতে সরকারের রাজস্ব আয় দাঁড়ায় ৩ কোটি টাকার উপর, বলেও জানান তিনি।"
সুন্দরবন অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে জানান, এই সেতুকে ঘিরে বন বিভাগ সুন্দরবনে আগাম চারটি পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে সুন্দরবনে সাতটি ইকোট্যুরিজম সেন্টার রয়েছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে আমরা এখন আরও বেশি পর্যটক আশা করছি।"
বাগেরহাটে
জাতিসংঘের বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের বাংলাদেশের তালিকাভুক্ত ৩টি ঐতিহাসিক সাইটের মধ্যে ২টিই বাগেরহাটে অবস্থিত। যার মধ্যে পৃথিবীর আদি বনের একটি ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। অন্যটি সুলতানি আমলের মধ্যযুগের ঐতিহাসিক বিভিন্ন পুরাকীর্তি সমূহ।
বর্তমানে পুরাকীর্তি শহর দেখতে বছরে ৩ লাখেরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করতে আসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সুন্দরবনের বাগেরহাট অংশে পর্যটক এসেছেন ১ লক্ষ ২০ হাজার জন। এখান থেকে সরকারের রাজস্ব আয় এসেছে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা। একই সময়ে ষাটগম্বুজ মসজিদে এসেছেন ১ লক্ষ ৮০ হাজার দর্শনার্থী। রাজস্ব আয় হয়েছে ৬০ লাখ টাকা।
সুন্দরবন টুরিস্ট ক্লাবের শেখ শাকির হোসেন বলেন, বাগেরহাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য যাতায়াতের প্রধান ব্যবস্থা হচ্ছে সড়ক পথ। আর এই সড়ক পথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় দূর্ভোগে পড়তে হতো মানুষদের। তবে পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে সেই চিরচেনা রূপ একেবারেই পাল্টে যাবে। ঘুরে দাঁড়াবে সম্ভাবনাময় বাগেরহাটের পর্যটন শিল্প।

বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান যায়েদ জানান, পদ্মা সেতু যে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে তাতে দর্শনার্থী সংখ্যা ধারণার চেয়েও বেশি হবে। ফলে স্থানীয়রা দর্শনার্থীদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা (হোম স্টে) করতে পারলে বেশ লাভবান হবে। এছাড়া দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ষাটগম্বুজের সামনের বিশ্রামাগার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন ঘোড়াদিঘিকে নান্দনিক করতে ওয়াক ওয়ে তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটন করপোরেশনের অর্থায়নে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ৬ হাজার টাকা ব্যয়ে খানজাহান আলী (রহ) এর মাজার মোড়ে একটি তিন তারকা মানের হোটেল নির্মাণের কাজ চলছে। যার প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম মন্টু বলেন, ইতোমধ্যে বাগেরহাট-ঢাকা রুটে বিলাসবহুল বাস চালানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।
শুধু মসজিদ দেখতে আগ্রহী পর্যটকদের সংখ্যাই বাড়বে তা নয়, খুলনার অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোতেও দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্যাকেজে পদ্মা সেতুতে দিনের সফর
২৫ জুন পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দিলে লাখ লাখ মানুষ দেশের দীর্ঘতম সেতু দেখতে আসেন।
ইতিমধ্যে কয়েকটি পর্যটক সংস্থা ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই দিনব্যাপী প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু ভ্রমণের পাশাপাশি আশেপাশের অন্যান্য পর্যটন স্পট দেখার সুযোগ।
এই ধরনের প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে সকালের নাস্তা, পদ্মার তাজা ইলিশসহ নানা ধরনের সুস্বাদু তরকারি, ভর্তা দিয়ে দুপুরের খাবার এবং বিকেলে বিক্রমপুরের মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাবার।
ট্র্যাভেল সোর্স বিডি লিমিটেড নামের একটি সংস্থার কাছে পদ্মা সেতু ভ্রমণের জন্য এমন দিনব্যাপী প্যাকেজ রয়েছে। প্যাকেজের আওতায় ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে যাত্রীদের মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতুতে আনা হবে। তারা ফরিদপুরের ভাঙ্গার নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে পাবেন এবং কাঁঠালবাড়ি ফেরি ঘাটে পিকনিক স্পটেও যেতে পারবেন।
এই ট্রিপে জনপ্রতি খরচ হয় ১,০০০ টাকা। পরিবারের সাথে বুকিং করার জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় ছাড়।
রাষ্ট্রীয় পর্যটন সংস্থা বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ১জুলাই থেকে স্বল্প খরচে প্রিমিয়াম ডে ট্যুর অফার করছে।
বিপিসির নতুন টয়োটা এসি ট্যুরিস্ট কোস্টারের মাধ্যমে যাত্রীরা পদ্মা সেতু ও টুঙ্গিপাড়া একদিনের ভ্রমণ করতে পারবেন।
প্যাকেজটির মূল্য ৩,৫৭০টাকা এবং এতে রয়েছে দু'বেলার খাবার, টুঙ্গিপাড়ার পর্যটন মোটেল মধুমতিতে দুপুরের খাবার সহ পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধুর মাজার কমপ্লেক্স এবং মধুমতি নদীর তীরে ভ্রমণ।
সম্ভাব্না দুয়ারে কড়া নাড়ছে
বর্তমানে, দক্ষিণের ট্যুর অপারেটর সংস্থাগুলি এবং প্রশাসন সম্ভাব্য ব্যাপক পর্যটক সমাগমে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা এবং অবকাঠামোর অভাবে উদ্বিগ্ন।
কুয়াকাটায় থাকার জায়গা সীমিত বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটার ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ। বিদ্যমান হোটেল এবং রিসোর্টগুলি সর্বোচ্চ ১৫,০০০ অতিথিকে আতিথ্য দিতে পারে।
তাই, পর্যটকদের বাড়তি চাপ মোকাবেলা করার জন্য তারা কাছাকাছি বাড়িতে "হোম স্টে" পরিষেবা চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, "এই লক্ষ্যে, আমরা ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ বাড়ির মালিককে পর্যটন পরিষেবাগুলিতে প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং আরও কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে৷ .
সুন্দরবন ভ্রমণের আয়োজনকারী পাগমার্ক ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বাচ্চু জানান, বিদ্যমান অবকাঠামো নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
"আমাদের জাহাজে সঠিকভাবে চড়ার জন্য পর্যটকদের জন্য [খুলনার মংলায়] খুব কমই কোনো ঘাট আছে। অন্তত ৫০ জন পর্যটক রাখার জন্য আমরা শুধু হোটেল বা রিসোর্ট খুঁজে পাব না, এমন কোনো রেস্তোরাঁও নেই যেখানে আপনি ৪০ জনের থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন। আমি নিশ্চিত নই যে, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে কী সমস্যাটাই না মোকাবেলা করতে হবে।
তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রাইভেট অপারেটরদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করার মতো আর্থিক অবস্থা নেই। এ বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের বলেছেন, পর্যটনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সরকার সচেতন।
"অবকাঠামোর অভাব এখনও একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয়। আমি নিশ্চিত যে সরকার খুলনা ও বরিশালে পর্যটন বিকাশে একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। তবে বিটিবি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করার জন্য আরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পর্যটনের জন্য নতুন নতুন স্পট গড়ে তোলার জন্য সরকারের একটি নতুন পরিকল্পনা রয়েছে।
"আমরা বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় জরিপ করে একটি মাস্টার প্ল্যানে কাজ করছি। পরিকল্পনায় ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং সুন্দরবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।"
বিটিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, একাধিক দেশি ও বিদেশি কোম্পানিও পর্যটনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
"প্রতিষ্ঠিত পর্যটন হটস্পটগুলি ছাড়াও, নতুন নতুন এলাকাগুলিকে পর্যটন আকর্ষণ হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। এই মুহূর্তে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচরে একটি প্রকল্প চলছে।"
এছাড়াও, দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য দেশের পর্যটন খাতকে সম্পূর্ণরূপে পুনরুজ্জীবিত করার মাস্টার প্ল্যানটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ১,১০০টি এলাকাকে পর্যটন হটস্পট হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে এবং সরকার সেখানে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করবে। পদ্মা সেতুর কারণে খুলনা ও বরিশালের স্পটগুলো ‘বিশেষ মনোযোগ’ পাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পদ্মা সেতুর কারণে শুধু কুয়াকাটা, বাগেরহাট ও সুন্দরবন নয়, বরিশাল অঞ্চলের চর দ্বীপের মতো আরও অনেক পর্যটন স্পটও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হবে যা পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে অভিজ্ঞমহলের ধারণা।










