পর্যটকের পদচারণায় মুখর পদ্মার নান্দনিক ওয়াকওয়ে

ভ্রমণপিপাসুদের অবসর বিনোদনের অন্যতম ভালোলাগার ঠিকানা এখন পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধের ১০.২ কিলোমিটারব্যাপী দেশের সবচেয়ে বড় নদীভিত্তিক পর্যটন এলাকা নড়িয়ার ‘জয়বাংলা এভিনিউ’। শুধু ঈদকেন্দ্রিক নয়, সরকারি ছুটিসহ অবসরে বিনোদনপ্রেমীরা বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জয়বাংলা এভিনিউতে পরিবার নিয়ে আনন্দমুখর সময় কাটান। তবে ভ্রমণপিপাসুদের ঈদ উৎসবকে বর্ণিল করতে এখানে পর্যটকদের ভিড় বেড়ে যায় বহুগুণ।
পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধের ১০.২ কিলোমিটার নান্দনিক ওয়াকওয়েকে ঘিরে ‘জয়বাংলা এভিনিউতে’ ঈদ আসর উদযাপনে হাজারো পর্যটক ও দর্শনার্থী ওয়াকওয়েতে হেঁটে, বসে এবং বাঁধের ব্লকের ওপর বসে পদ্মার পানিতে পা ভিজিয়ে আনন্দ উপভোগ করছেন। পদ্মা পাড়ের সৌন্দর্যকে স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে যে যার মতো ছবি তুলছেন। আর শিশুদের ছোটাছুটি ও কোলাহল ওয়াকওয়েকে করে তুলছে আরো অপরূপা।
পর্যটকদের বাহারি খাবার যোগান দিতে ইতোমধ্যে এখানে গড়ে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য খাবারের দোকান। আতঙ্কিত জনপদ এখন দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলছে কর্মসংস্থানের উজ্জ্বল সম্ভাবনার দিকে।
ঈদ উৎসবে ঘুরতে আসা শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের জমির উদ্দিন মাদবর কান্দি গ্রামের আফরিন জাহান বলেন, পাঁচ বছর আগেও যেখানে এই বর্ষা মৌসুমে পদ্মার আগ্রাসনে সব হারানোদের আর্তনাদের সুর ধ্বনিত হতো, সেখানে এখন প্রতিধ্বনিত হয় আনন্দ উল্লাস। ভাঙন আতঙ্ক এখন কেবলই ধূসর স্মৃতি।
আব্দুল্লাহ আল সিয়াম বলেন, পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধ, জয়বাংলা এভিনিউ ও ওয়াকওয়ে সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করার ভাষা আমার নেই। ২০১৮ সালে পদ্মার আগ্রাসী রূপের যে দৃশ্য দেখে দর্শনার্থীরাও কেঁদেছে, এখন ওই দৃশ্যকে মনে করাটাও দুঃসাধ্য। এখন পর্যটকদের আনন্দমুখর পদচারণা দেখলে কে বলবে এটিই ছিল সেই দুঃস্বপ্নের প্রতিচ্ছবি? চোখ জুড়ানো ওয়াকওয়ে ও জয়বাংলা এভিনিউ এখন শরীয়তপুরের ভাঙনকবলিতদের কাছে যুগ থেকে যুগান্তরের ইতিহাস হয়ে থাকবে।
জয়বাংলা এভিনিউ সংলগ্ন পদ্মা রিভার ভিউ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান বিপ্লব বলেন, ঈদ উপলক্ষে উপচে পড়া পর্যটকদের সামাল দিতে এখানে গড়ে ওঠা চারটি রেস্টুরেন্ট যথেষ্ট নয়। ফলে আরো অনেকেই উদ্যোগ নিচ্ছেন। এ ছাড়াও জয় বাংলা এভিনিউকে ঘিরে কফিশপ, ফুচকা ও চটপটিসহ নানা মুখরোচক খাবারের ১৫টিরও বেশি ভ্রাম্যমাণ দোকান রয়েছে। ফলে পদ্মার ভাঙনে সর্বস্ব হারানোদের অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, বাস্তবায়িত ১০.২ কিলোমিটর পদ্মার ডান তীর রক্ষা বাঁধ এখন পদ্মার ভাঙন রোধের সীমানা ছাড়িয়ে পরিণত হয়েছে যেকোনো উৎসবকে রাঙিয়ে তোলার স্থানে। বিনোদনের উপলক্ষ আরো বাড়িয়ে দিতে পরিকল্পিত রক্ষা বাঁধের কাজ এগিয়ে চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষ করতে পারলে আগামী চার বছরের মধ্যেই পদ্মা সেতুর জিরো পয়েন্ট থেকে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত স্থায়ী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, আগ্রাসী পদ্মার ভয়াল ভাঙন রোধে পদ্মার ডান তীরের ১০.২ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয় ২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর।
-B










