দফায় দফায় জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি : বিপাকে দেশীয় বিমান সংস্থা

দেশে আরেক দফা বেড়েছে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম। স্থানীয় ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৯ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকা আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য দাম ১১২ টাকা ৮২ পয়সা। ৯ জুলাই থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড সম্প্রতি জেট ফুয়েলের এই নতুন দাম নির্ধারণ করেছে।
এ নিয়ে গত ২০ মাসের ব্যবধানে দেশে জেট ফুয়েলের দাম ৫৪ টাকা বা ১৭০ শতাংশ বেড়েছে।
গত দেড় বছরে দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম ১৭০ শতাংশ বাড়ায় ফ্লাইটের টিকিটের দামও বেড়ে গেছে, যা নিয়ে শঙ্কিত দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো।
অভ্যন্তরীণ বাজারে জেট ফুয়েলের দাম ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর মারাত্মক ক্ষতির সম্মখীন হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক বাজার হারানোর সম্ভাবনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা।
দফায় দফায় জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (অপারেশন্স)ড. মহ. শের আলী বাংলাদেশ মনিটরকে বলেন, এটি সাধারণত নির্ধারিত হয় আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সাথে। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের দিকে নজর রেখেই আমরা অর্থাৎ বিপিসি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।
এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কারণে বিপিসির ওপর চটেছেন অ্যাভিয়েশন খাতের সঙ্গে জড়িতরা। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম কমেছে। এ অবস্থায় বিপিসির সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।
দফায় দফায় জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বাংলাদেশ মনিটরকে বলেন, খাদের কিনারায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিকাশমান এভিয়েশন খাত।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যাহিদ হোসেন বাংলাদেশ মনিটরকে বলেন, এতে করে অবশ্যই খরচ বাড়বে তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব আমরা চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (সচিব)এ বি এম আজাদ এনডিসি বাংলাদেশ মনিটরকে বলেন, এটি আসলে মূল্যবৃদ্ধি নয়, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মূল্য সমন্বয়। সরকার জেট ফুয়েল আমদানিতে কোটি কোটি টাকা গচ্চা দিচ্ছে যেখানে সেখানে সামর্থবানদের এটা তো একটু মেনে নিতেই হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি এয়ারলাইন্সের ৪০ শতাংশ পরিচালন ব্যয় হয় জেট ফুয়েলে। জেট ফুয়েলের দাম যত বেশি, ব্যয় তত বাড়ে। যেসব দেশ কম দামে তেল কিনছে, তাদের পরিচালন ব্যয় কম হচ্ছে, যাত্রীদের জন্য তারা কমদামে টিকেট দিচ্ছে। আর বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের অতিরিক্ত দামের প্রভাবে এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব দিন দিন কমতে থাকে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলো।
এমনকি রিজেন্ট, জিএমজি ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনেও নিজেদের অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়ের কথা তারা উল্লেখ করেছেন।
দেশের প্রথিতযশা এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ার কারণে বিমানযাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে। এভাবে ঘন ঘন জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পুরো এভিয়েশন খাত। এতে বাজার বিদেশি এয়ারলাইনসের দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন,‘মহামারির কারণে পুরো এভিয়েশন খাতই কিন্তু বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। যেখানে এই খাত সরকারের বেশি সহযোগিতা আশা করে, সেখানে এভাবে বারবার জ্বালানির (জেট ফুয়েল) দাম বাড়লে এটা সমন্বয় করতে গিয়ে এয়ারলাইনসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শেষ পর্যন্ত তো এই খরচের বোঝা চাপবে জনগণের ওপরেই। যাত্রীরাই এতে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
-B










