সংকটে সম্ভাবনাময় খুলনাঞ্চলের পর্যটন শিল্প
পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় একটি জেলা বাগেরহাট। বিশ্ব ঐতিহ্যের দুটিই বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
পর্যটক সংশ্লিষ্টদের আশা ছিল, পদ্মা সেতু চালু হলে খুলনাঞ্চলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। প্রত্যাশা করেছিল পর্যটন মন্ত্রণালয় সহ বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডও।
কিন্তু প্রত্নস্থান গুলির জীর্ণদশা, অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা, মানসম্মত খাবার হোটেল-আবাসন ব্যবস্থা সহ নানাবিধ কারণে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্প।
একদিকে সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি সুন্দরবনের সৌন্দর্য, অপরদিকে ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ। পর্যটন শিল্পে এ জেলার অনেক সম্ভবনা থাকলেও দীর্ঘদিনেও নিশ্চিত করা যায়নি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা।
ষোড়শ শতাব্দীতে খানজাহান আমলে নির্মিত ইসলামী স্থাপত্য রীতির মসজিদ গুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৯৮৫ সালে বাগেরহাটকে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর হিসেবে ঘোষনা এবং ৩২১তম বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে ইউনেস্কো।
এর মধ্যে বাগেরহাটের ১৭টি স্থাপনাকে তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকাভুক্ত স্থাপনা ছাড়াও বাগেরহাটে আরও অনেক পুরাকীর্তি ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা রয়েছে। সম্প্রতি বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় আরও ১৬৩টি প্রত্নস্থান (সাইট) শনাক্ত করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১বছরে সুন্দরবনের বাগেরহাট অংশে পর্যটক এসেছেন ১ লক্ষ ২০ হাজার। অন্যদিকে বাগেরহাটের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ষাটগম্বুজ মসজিদে এসেছেন ১ লক্ষ ৮০ হাজার দর্শনার্থী। বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদের আশেপাশের ৫ কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে ইউনেস্কো ঘোষিত ১৭টি স্থাপনা। তবে ষাট গম্বুজ মসজিদ ছাড়া জেলা শহরের মধ্যে থাকা অন্যান্য স্থাপনাগুলো পড়ে রয়েছে অযত্ন আর অবহেলায়।
মানসম্মত খাবার হোটেল-আবাসন ব্যবস্থারও রয়েছে সংকট। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে নেই ট্যুরিস্ট গাইড। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে যাতায়াত ব্যবস্থাও নাজুক। সবকিছু মিলিয়ে দিন দিন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে সম্ভাবনাময় এ জেলার পর্যটন শিল্প।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন সুন্দরবন ও ষাট গম্বুজ মসজিদসহ জেলাকে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তুলতে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ।
বাগেরহাট ট্যুরিষ্ট ক্লাবের পরিচালক আব্দুল্লাহ বনি জানান, বাগেরহাট অঞ্চলে ভাল মানে আবাসন সুবিধা নাথাকায় পর্যটকরা এখানে অবস্থান করেনা। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের অভাবে পর্যটকদের সাথে স্থানীয়দের আচার-ব্যবহারে ঘাটতি রয়েছে।
ষাটগুম্বজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, পদ্মা সেতু ও বেকুটিয়া সেতু চালুর ফলে বাগেরহাটের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ সহজ হয়ে গেছে। জেলার প্রবেশপথ সহ বিভিন্ন স্থানে বাগেরহাটের দর্শনীয় স্থাপনার বর্ণনা, যাতায়াত ব্যবস্থা, খাবার ও থাকার হোটেল লিখে রাখা যায় তবে দর্শনার্থীদের জেলায় ভ্রমণ আরও সহজতর হবে।
বাগেরহাট প্রত্নত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মোঃ যায়েদ জানান, পর্যটন নগরী বাগেরহাটে আগত দর্শনার্থীদের জন্য লোকালয়ে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা (হোম স্টে) করতে পারলে স্থানীয়রা বেশ লাভবান হবেন। এছাড়া দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ষাটগম্বুজের সামনের বিশ্রামাগার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন ঘোড়াদিঘিকে নান্দনিক করতে ওয়াক ওয়ে তৈরী করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বা ইকো-ট্যুরিজম সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরও চারটি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন করে তৈরি হতে যাওয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রগুলো হচ্ছে সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কালাবগী এবং শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্ধা ও চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বলেন, বাগেরহাটকে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানা উদ্যেগ নিয়েছে। প্রত্যেকটি পর্যটন কেন্দ্রের শোভা বর্ধন, আবাসন ব্যবস্থা, মানসম্মত খাবার, বিপনন কেন্দ্র, সহজ যাতায়াত, সার্বিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। অচিরেই বাগেরহাটের পর্যটন শিল্প আরও বিকাশিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
-Biplob










