প্রবালদ্বীপে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

দীর্ঘ ৯ মাস পর আবারও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে শুক্রবার পর্যটকবাহী প্রমোদ তরীর যাত্রা শুরু হওয়ায় সবার মাঝে এ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
নাব্যতা সংকট ও মিয়ানমারে চলমান সংঘর্ষের কারণ দেখিয়ে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখে প্রশাসন। যার কারণে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা খাতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়ায় সংশ্লিষ্টরা এখন দারুণ খুশি।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন,'' অনেক দেনদরবার, আবেদন ও বাস্তবতা বিবেচনায় অবশেষে ১২ জানুয়ারি টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে জাহাজ চলাচলের অনুমোদন মেলে। আর তাতেই কি কেটে গেল নাব্যতা সংকট! বর্তমানে এ রুটে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলছে। আর এতে করে আবারো মুখরিত দ্বীপের বালিয়াড়ি ও সাগরতীর। এতেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে সেন্টমার্টিনে। স্বাভাবিক হয়ে উঠছে পর্যটন ব্যবসা।''
সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, পর্যটন মৌসুমে ৭-৮টি জাহাজ টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচল করলেও মৌসুম শেষে কিছু অন্য নৌরুটে চলে যায়। তবে কেয়ারি গ্রুপের দুটি জাহাজ টেকনাফে থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এপ্রিল থেকে বেশ কয়েক মাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
কিন্তু কাঠের ট্রলারে স্থানীয় ও অনেক পর্যটক সেন্টমার্টিন যাতায়ত অব্যাহত রাখে। তবে জাহাজ চলাচল শুরু হলেই হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো ধুয়ে মুছে পর্যটক সেবায় তৈরি করা হয়। এসময় হাজারো পর্যটকের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। শুক্রবার থেকে সেন্টমার্টিনের পরিবর্তিত চেহারা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

শুক্রবার প্রথম দিন ৬১০ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন ভিড়ে এমভি পারিজাত ও এমভি রাজহংস। শনিবার দ্বিতীয় দিন কেয়ারী সিন্দাবাদ ১৭৪ এবং আটলান্টিক ক্রুজ ৯৮ জন পর্যটকসহ ১৩০ জন যাত্রী নিয়ে টেকনাফ ঘাট থেকে দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। অতিথিদের স্বাগত জানান জাহাজ কর্তৃপক্ষ। রোববার (১৫ জানুয়ারি) থেকে আরও দু’টি জাহাজ শহীদ সুকান্ত বাবু ও ভাষা শহীদ সালাম চলাচল করবে বলে জানা গেছে।
সেন্টমার্টিনের সী-প্রবাল হোটেলের মালিক আবদুল মালেক বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যবসায় ধস নেমেছে। মঙ্গলবার থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক আসার সুখবর পাচ্ছি। পর্যটকদের জন্য হোটেল সাজিয়ে রেখেছি। সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের স্বাগত জানাচ্ছি।’
দীর্ঘদিন পরে জাহাজ চলাচল করায় দ্বীপবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে পর্যটন ব্যবসা। দেখছে নতুন আশার আলো।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের অভিমত, সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক না আসলে দ্বীপের মানুষের আয় কমে যায় এবং কাঠের বোটে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, শুক্রবার থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জাহাজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরও উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত বিষয়টি তদারকি করবে।
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি-ক্রুজ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পরে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসী সন্তুষ্ট। তাদের মাঝে কর্ম-চাঞ্চল্য ফিরেছে।
-B










